আমাদের ভারত, ২০ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যে এস আই আর সংক্রান্ত ইস্যুতে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। চুড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৮ তারিখের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে যে নাম গুলি যাচাই হয়ে সামনে এসেছে তার ভিত্তিতে ২৮ তারিখের মধ্যে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
দেশের শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ইতিমধ্যে যা সম্পন্ন হয়েছে তা আটকে রাখা যাবে না। তবে প্রয়োজন হলে পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে নতুন নাম সংযোজনের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ প্রথম দফায় প্রকাশিত তালিকা নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া এগোবে, পরে সংশোধন বা সংযোজনের পথ খোলা থাকবে।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে বড় নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে কলকাতা হাইকোর্টে নিযুক্ত অফিসেরদের দায়িত্ব দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার শুনানিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইআরও নয় বরং এই আধিকারিকরাই তথ্য যাচাইয়ের কাজ করবেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানানো হবে, যাতে প্রতিটি জেলায় কয়েকজন কর্মরত বিচারক অফিসার অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারক নিয়োগ করা হয়। তাদের তত্ত্বাবধানে অসঙ্গতি নথি পরীক্ষা করা হবে। এই কাজে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মনোনীত কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।
এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কমিশনের প্রতিনিধি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, মুখ্য সচিব অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল। কিভাবে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায় এবং চলতি জটিলতা মেটানো যায় তা আলোচনা হবে।
অন্যদিকে রাজ্য বিধানসভা ভোটে প্রাক্কালে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে রাজ্যের ডিজিকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি। শুক্রবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে অনুকূল নয়। যদি অবিলম্বে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হয় কিংবা পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ না করে তবে ডিজিকে জবাবদিহি করতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এস আই আর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। কমিশন এবং রাজ্য উভয়েরই বিষয়টি সমানভাবে উপলব্ধি করা উচিত। এস আই আর নিয়ে টানাপোড়নের আবহে আদালতের এই নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিচারকদের তত্ত্বাবধানে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বচ্ছতা বাড়বে, ভোটের আগে অনিশ্চয়তা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

