আমাদের ভারত, ৬ এপ্রিল: বিধানসভা ভোটের মধ্যে মালদার মোথাবাড়ি ঘটনা নিয়ে সোমবার কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মোথাবাড়ির ঘটনার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিলো ট্রাইবুনালের কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর মতো পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনকে। একই সঙ্গে মোথাবাড়িতে বিচারকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্ত এন আই এ -ই করবে বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
মালদহে ৭ জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও- এর ঘটনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয় ইতিমধ্যে ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোফাক্কারুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় ধৃতদের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি এন আই এ’র কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানি সময় মোথাবাড়ির ঘটনার একটি ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়, যে ভিডিওতে এক বিচারকের আতঙ্কিত আর্তনাদ শোনা যায় বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওটি দেখার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিশেষ করে সিআরপিএফ নিয়ে করা মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরো উত্ত্যক্ত করে তুলতে পারে। আদালতে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ২৫ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে এনআইএ। আক্রান্ত বিচারকদের বয়ানের পাশাপাশি মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২০ জন বুথ লেভেল অফিসারের জবানবন্দী গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে অনুমান।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠিক কতটা ছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরেই তা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে করা শীর্ষ আদালতের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

