আমাদের ভারত, ২০ মার্চ: শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ আর কত প্রজন্ম ধরে চলবে? আজ এই প্রশ্নই তুলল সুপ্রিম কোর্ট? বিচারপতি অশোক ভূষনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেছে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যদি ৫০ শতাংশ অথবা কোনও উর্ধ্বসীমা না থাকে সেক্ষেত্রে সকলের সমান অধিকারের বিষয়টি কি হবে?
চাকরিও শিক্ষাক্ষেত্রে মারাঠাদের জন্য ১৬% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে বিল পাস করেছিল মহারাষ্ট্র সরকার। তাকেই চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলা এখন পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেছে সাংবিধানিক বেঞ্চ।
এর আগে ১৯৯৩ সালে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, যে সংরক্ষণের উর্ধ্বসীমা ৫০% পেরিয়ে যাওয়া চলবে না। কিন্তু মারাঠাদের সংরক্ষণের ১৬% ধরলেই উর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যায়। মহারাষ্ট্র সরকারের আইনজীবী মুকুল রোহতগির যুক্তি ১৯৩১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আগের রায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই রায় পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তিনি বলেন, কতদূর সংরক্ষণ হবে তা স্থির করার ভার রাজ্যগুলির উপর ছাড়া উচিত। এছাড়াও তিনি বলেন, আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির জন্য কেন্দ্র সরকার ১০% সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছিল, তা ধরলেও উর্ধ্বসীমা ৫০% পেরিয়ে যাচ্ছে।
বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে উর্ধ্বসীমা না থাকলে তার ফলে তৈরি হওয়া অসাম্যের কি হবে? বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা বলেন, স্বাধীনতার পর ৭০ বছর কেটেছে, বিভিন্ন রাজ্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালাচ্ছে। তাহলে আমাদের কি মানতে হবে কোনো উন্নয়নই হয়নি ৭০ বছরে এবং অনগ্রসর কোনও শ্রেণির কি অগ্রসর হয়নি?
সে ক্ষেত্রে রহতোগী বলেন, উন্নয়ন হলেও অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হয়নি। দেশে এখনও অনাহারে মৃত্যু হয়। ৩০ বছরে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

