আমাদের ভারত, ২৬ সেপ্টেম্বর:
ইডির বিরুদ্ধে এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নালিশ করতে চলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে ইডির যে সমস্ত অফিসাররা যুক্ত তাঁরা কেউ ২০১৪ সালের পর জন্মাননি কিংবা ২০১৪ সালের পর চাকরিতেও যোগ দেননি। বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণ আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেও জানাবো।”
বঙ্গ বিজেপি সভাপতি বলেন, “আমরা আদালতের কাছে আবেদন করব যদি কোনও তদন্তকারী ইডি অফিসারের বিরুদ্ধে তাদের কোনও সন্দেহ হয় তাহলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। কংগ্রেস আমলের কোনও তদন্তকারী অফিসার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আড়াল করার চেষ্টা করতেই পারেন। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সরকার কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে না। বিএসএফের একজন অফিসারকেও তো গ্রেফতার হতে হয়েছে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এর আগে সিবিআই ও ইডির কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এবার তাদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি অমৃত সিনহা। হাইকোর্টে একটি মামলার ভিত্তিতে সোমবার এই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। তার পরেই সুকান্তবাবু এই প্রতিক্রিয়া জানান।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বীমা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির বিষয় বিস্তারিত তথ্য আদালতকে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিচারপতি আদালতে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনারা জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তিনটি বীমা আছে। আর কোনও সম্পত্তি নেই? ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই? তার বেতন কোন একাউন্টে যায়?” প্রশ্ন করেন বিচারপতি। সেই প্রশ্নের ভিত্তিতে আদালতে ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় হ্যাঁ আছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তারপরই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “তার উল্লেখ করেননি কেন? আপনারাই তথ্য গোপন করছেন বলে আমার এখন সন্দেহ হচ্ছে।”
এই পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

