ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতেই নবান্ন অভিযান বিজেপির, আটক সুকান্ত, শুভেন্দু লকেট রাহুল, দেখুন ছবি

আমাদের ভারত, ১৩ সেপ্টেম্বর: মঙ্গলবার সকাল থেকে বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। শহরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে। কিন্তু পিছুপা হয়ে যায়নি বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।

বেলা বাড়তেই দু’পক্ষের উত্তেজনা বেড়েছে। একের পর এক আটক হয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও বিজেপি কর্মী আহত হওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নবান্ন অভিযান ইতি ঘোষণা করেছেন দিলীপ ঘোষ পৌনে তিনটে নাগাদ। কিন্তু সুকান্ত বলেছেন তার অবস্থান চলবে।

মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী আসেন জেলা থেকে। তাদের জন্য ট্রেন ভাড়া করেছিল বিজেপি। রাতে হাওড়ায় কর্মীদের সঙ্গে ছিলেন সুকান্ত মজুমদার।

যদিও গত কালই অভিযোগ উঠেছিল উত্তরবঙ্গের একাধিক স্টেশনে বিজেপি কর্মীদের ট্রেন ধরতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। স্টেশনে ব্যারিকেড করে রাখার অভিযোগ করেন বিজেপি কর্মীরা। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, তুফানগঞ্জ, মালবাজার, ফালাকাটা, শিলিগুড়ি জংশনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিজেপি কর্মীরা দাবি করেন, পুলিশ তৃণমূলের দাস হিসেবে কাজ করছে।

কলকাতায় কড়া নিরাপত্তা দেখা গিয়েছে এদিন।সাঁতরাগাছির কাছে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। রীতিমতো রাস্তা খুঁড়ে লোহার বিম ঢালাই করে ব্যারিকেড করা হয়েছিল। শহরের একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বে ছিলেন দু’জন করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। ১৮ জন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক ক্রমাগত নজরদারি চালিয়েছেন। গোটা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন বিশেষ কমিশনার দময়ন্তী সেন।

নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল দ্বিতীয় হুগলি সেতু। শহরের একাধিক রাস্তাও। বিজেপির অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ট্যান্ড রোডের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ এল কোথা থেকে? কয়লার গাড়ি, গরুর গাড়ি গেলে পুলিশ দেখা যায় না, পাড়ায় বোম পড়লে থানায় ফোন করলে ফোর্স নেই বলে। আজ এত পুলিশ ঝাড়খন্ড বিহার থেকে কি চলে এল নাকি?

মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীকে মিছিল শুরুর আগে আটক করা হয়। সাঁতরাগাছিতে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কাছে আটক করা হয় শুভেন্দু অধিকারী, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহাকে। শুভেন্দু অবশ্য বেশিক্ষণ বাকবিতণ্ডায় যাননি। নিজেই প্রিজন ভ্যানে উঠে যান। তার মিছিল এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

এরপর হাওড়া ময়দান থেকে মিছিল শুরু করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, গুলি খেতেও তৈরি।

দিলীপ ঘোষ ও কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল শুরু করেছিলেন। তারই মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাঁতরাগাছি। পুলিশ ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চরমে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। হাওড়াতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় বিজেপি কর্মীরা। রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল।

পরবর্তী দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন বিজেপি কর্মীদের মিছিল এমজি রোড ধরে হাওড়া ব্রিজের দিকে এগোনোর পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু সেখানে পুলিশের জলকামানের মুখে পড়ে সেই মিছিলে আহত হন বহু দলীয় কর্মী সমর্থক। দুপুর ২ টা ৪০ নাগাদ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দেন, নবান্ন অভিযান শেষ। কিন্তু সেই সময় সুকান্ত জানান তার অবস্থান চলবে।

এদিকে এম জি রোডে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, তৃণমূলের গুন্ডারা কিংবা পুলিশ নিজেরা ইচ্ছাকৃত বিজেপির নামে দোষ চাপাতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। সুকান্ত মজুমদারকেও আধঘন্টা অবস্থান-বিক্ষোভ চালানোর পর গ্রেপ্তার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *