শ্রীরূপা চক্রব্ররতী, আমাদের ভারত, ২৭ আগস্ট: গেরুয়া ওয়াশিং মেশিনে ঢুকলেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আর কোনো তদন্ত হয় না। শুক্রবার ফিরহাদ হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে একথা বলেছিলেন সংবাদ মাধ্যমছর সামনে। আর এর পাল্টা নীলসাদা ওয়াশিং মেশিনের তত্ত্ব তৃণমূলকে মনে করালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক নেতা মন্ত্রীর কেউ সিবিআই হেফাজতে কেউ ইডি হেফাজতে। অন্যদিকে অতিরিক্ত সম্পত্তি মামলাতে আরও বেশকিছু নেতার নাম উঠেছে। সেই মামলায় ইডিকে পার্টি করেছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি। তার পালটা চাঁচাছোলা ভাষায় শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। পার্থ অনুব্রতর পর এবার ববির জেলে যাওয়ার পালা বলে তোপ দেগেছেন তিনি। আর তাতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী।
ফিরহাদের অভিযোগ গেরুয়া শিবিরে চলে গেলে সিবিআই ইডি থেকে ছাড় পেয়ে যান নেতারা। নারদা, সারদা মামলায় শুভেন্দুকে কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করছে না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সব নেতারাই। তাদের দাবি, বিজেপিতে চলে গেলে সব দোষ ধুয়ে মুছে যায়। ববি হাকিম এই প্রসঙ্গে বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এইসব করা হচ্ছে। তার কথায়, “তৃণমূলে থাকলেই সবাই চোর। আর অন্য দলে থাকলে সাধু। সুকান্তবাবুদের দলে গিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকলেই সবাই সাধু হয়ে যায়। বিজেপিতে কি সবাই সাধু? তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয় না কেন? শুধু অবিজেপি নেতাদের ধরে ধরে মামলা দেওয়া হয় কেন?”
শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্টে ববি হাকিমের এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার নীল সাদা ওয়াশিং মেশিনের তত্ত্ব হাজির করেছেন। মনে করিয়েছেন, গত এগারোটা বছরে কিভাবে বাম কংগ্রেস থেকে দলে দলে তৃণমূলে এসেছে নেতারা। যাদের মধ্যে অনেকের নামেই নানা অভিযোগ রয়েছে। সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, “২০১২-২০২১ পর্যন্ত ২৮ জন বাম বিধায়ক, ২০১৬-২০১৮ পর্যন্ত ১৩ জন কংগ্রেস বিধায়ক’কে নীলসাদা রঙের ওয়াশিং মেশিনে সাধু বানানোর কথা ভুললে চলবে না।” মানস ভুঁইয়া, শওকত মোল্লা, রেজ্জাক মোল্লা, নাজমুল হোসেন, উদয়ন গুহ, পরেশ অধিকারী, আবু আয়েশ মন্ডল এর কথা মনে করিয়েছেন সুকান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন এদের কোন মেশিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? সুকান্ত মজুমদারের দাবি, এর থেকে স্পষ্ট যে ঘোড়া কেনাবেচার রীতি তৃণমূলেরই।
একই সঙ্গে তিনি ফের ববি হাকিমকে কটাক্ষ করে বলেছেন, পার্থ অনুব্রত জেলে গিয়ে ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের দেখার জন্য একজন হাকিমের জেলে যাওয়া খুব দরকার। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল নেতাকে গত এগারো বছরের অতীত মনে করিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন।

