আমাদের ভারত, ৪ সেপ্টেম্বর: অমিত শাহকে পাপ্পু বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেই নামে টিশার্ট পর্যন্ত ছাপানো হয়েছে। এবার এর পাল্টা দিতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপ্পু করে সম্বোধন করলেন সুকান্ত মজুমদার। বললেন পিসির দৌলতে আপ্পু আজ নেতা নাহলে বিজেপিতে কাজ করলে তার বুথ সভাপতি হবারও যোগ্যতা নেই।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, আজ নবান্ন অভিযানের সমর্থনে তমলুকে একটি দলীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “নিজে ব্যাটা আপ্পু আর অমিত শাহকে বলছে পাপ্পু। পিসি না থাকলে পরে বুথ সভাপতি হতে পারবে না। পিসির দৌলতে বড় নেতা। বিজেপিতে থাকলে অভিষেক ব্যানার্জিকে আমরা বুথ সভাপতিও বানাতাম কিনা সন্দেহ আছে। আমাদের বুথ সভাপতিরা এর চেয়ে অনেক বেশি সৎ।”

ইডির সমনে সাড়া দিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ জেরার পর বেরিয়ে সরব হন বিজেপির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে দাবি করেন তিনি কোনো অন্যায় করছেন সেটা প্রমাণ করতে পারলে তিনি নিজেই ফাঁসির মঞ্চে চলে যাবে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সবে ইডি সিবিআই খেলতে শুরু করেছে। তাতেই ছোট ছেলের মত বলছে আর খেলব না আর খেলব না। গত পরশুদিন খোকাবাবু ডাক পেয়েছিলেন। বেরিয়ে এসে খোকাবাবু বলছেন আমার বিরুদ্ধে যদি অন্যায় প্রমাণিত হয়, তিনি নাকি ফাঁসির মঞ্চে চলে যাবেন। তিনি ভুল করছেন তাকে ক্ষুদিরামের মতো ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সিবিআই ডাকেনি। গরু পাচার কয়লা পাচারের মত দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু খোকাবাবু এমন ভাব করছেন তিনি বুঝি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বোমা মেরে সিআইডির ডাক পেয়েছেন।”
প্রায় প্রতিদিনই তৃণমূলের কোনো না কোনো নেতা মন্ত্রী কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সিবিআই বা ইডি। এই ঘটনাকে সিরিয়ালের সাথে তুলনা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তার কথায় মা-বোনেরা সন্ধ্যা বেলায় সিরিয়াল দেখেন। কিন্তু বর্তমানে সন্ধ্যাবেলার সেই সব সিরিয়ালের থেকেও চমকপ্রদ সিরিয়াল দেখা যাচ্ছে। কোনোদিন চেয়ারম্যান, কোনদিন কাউন্সিলর, কোনদিন মন্ত্রী ধরা পড়ছে সিবিআইয়ের জালে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “সিরিয়ালে দেখা যায় একটা লোকের তিনটে চারটে বৌ। আসলে সিরিয়াল গুলো তৈরি হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত লোককে দেখে। আজকাল টিভি খুললে দেখা যায়, দিদির ভাই ভাতিজার বাড়ি, কেষ্টর গাড়ি, আর পার্থর নারী।”
ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়ার সমালোচনা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ক্লাবকে বশে রাখতে অনুদান দিচ্ছেন দিদিমণি। কিন্তু এই অনুদান রাজ্যর স্কুলগুলোকে কেন দিলেন না? কেন গ্রামের প্রাথমিক স্কুল গুলোতে এই টাকা দিলেন না? তাতে ছাত্র ছাত্রীরা একটু ভালো পোষাক পেতো। পড়াশোনার সুযোগ একটু বাড়তো।

