দাবাং! গঙ্গারামপুরে সুকান্তর তাড়া খেয়ে পড়ি কি মরি করে পালালো বিজেপি প্রার্থীদের ভয় দেখাতে আসা দুষ্কৃতীরা

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২০ জুন: আজ গঙ্গারামপুরে দেখা গেল অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারে আর এক রূপ। দলের কর্মীদের পাশে কীভাবে নেতৃত্বকে থাকতে হয় তার আরও একটা উদাহরণ তৈরি করলেন দাবাং হয়ে সুকান্ত মজুমদার। সম্প্রতি জেলায় জেলায় যেখানে বিজেপি প্রার্থীরা হুমকির মুখে পড়েছেন, যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন সেখানেই তিনি গিয়ে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন লড়াইয়ের। আজ তার দলের প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে রীতিমতো দুষ্কৃতিদের তাড়া করলেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তার তাড়া খেয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা।

আজ সুকান্ত মজুমদার যখন গঙ্গারামপুরে বিডিও অফিসে আসেন, তখনই সূত্র মারফত তিনি খবর পান, সুখদেবপুর অঞ্চলে কিছু দুষ্কৃতী গিয়ে তাঁর দলের প্রার্থীকে হুমকি দিচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনারস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান দুটি বাইক এবং একটি অল্টো গাড়ি করে দুষ্কৃতীরা সেখানে এসেছিল। দুষ্কৃতিদের নিজেই তাড়া করেন সুকান্ত মজুমদার। দুষ্কৃতীদের পিছনে ছুটে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাকে দেখে ভয়ে দুষ্কৃতীরা গাড়ি ফেলেই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, এরা সকলেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে তারা লাগাতার ভয় দেখাচ্ছে।

পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজে লিখিত আকারে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন সুকান্তবাবু। দুষ্কৃতীদের ফেলে পালানো দুটি বাইকের মধ্যে একটিতে নম্বর প্লেটও ছিল না বলে জানাগেছে। উদ্ধার হওয়া অল্টো গাড়িটি চারি দিক থেকে লক করা ছিল।

সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, “সুখদেবপুরে ১৭৪ নম্বর বুথে আমাদের যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনি মহিলা। তার বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা করছে সেটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসি। এসে দেখি দুটো মোটরসাইকেল ও একটা গাড়ি পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে একটি মোটর সাইকেলের নম্বর প্লেট নেই। শোনা যাচ্ছে এই গাড়িটিও চোরাই গাড়ি। এই গাড়িটিতে করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে হুমকি দেয় মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য। তারা জোর জবরদস্তি করতে থাকে। আমরা ওদের ধরার জন্য দৌড়েছিলাম। যথারীতি, সময়মতো পুলিশ আসেনি। পুলিশ এলে আমরা অভিযোগ জানাবো।”

বঙ্গ বিজেপির অতীত রাজনীতিতে কোনো রাজ্য সভাপতিকে সম্ভবত এভাবে নিচু তলার কর্মীদের জন্য লড়াই করতে দেখা যায়নি। বিশেষত ২১-এর নির্বাচনের পর যখন দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত, তখনও সেভাবে নেতৃত্বকে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। আর তাতে সংগঠন যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটা অনেক পদ্ম নেতাই স্বীকার করেন। কিন্তু সুকান্ত মজুমদার সেখানে দাঁড়িয়ে অন্য উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

দলের সংগঠন মজবুত না হলে ক্ষমতায় আসা মরীচিকা ছাড়া যে কিছুই নয়, সেটা ২১ নির্বাচন বঙ্গ বিজেপিকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আর সংগঠন তখনই মজবুত হবে যখন দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা থাকবে। স্থানীয় স্তরে লড়াই চালানোর মানসিকতা থাকবে। আর সেই মনোবল মজবুত করার দায়িত্ব নেতৃত্বের। এযাবৎ কালে সুকান্ত মজুমদারকে সেই কাজটা নাগাড়ে চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ, মালদা, ২৪ পরগনা, হাওড়া, কোচবিহার রাজ্যের যে প্রান্তে দলের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছে সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। আর আজ তো একেবারে দাবাং রূপে ছুটলেন দুষ্কৃতিদের পেছনে। তার এই পদক্ষেপ যে নিচুতলার কর্মীদের লড়াই করার সাহস অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *