আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ: শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির পর এবার আলোচনায় উঠে আসছে পৌরসভার দুর্নীতি। রাজ্যে ৬০টি পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চেয়ে কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন মন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি অয়ন শীলের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ইডির তল্লাশি অভিযানে সামনে এসেছে রাজ্যের ৬০টি পুরসভার প্রায় ৫ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, যে ৬০টি পুরসভায় ৫ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হালিশহর, বরানগর, পানিহাটি, কামারহাটি, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, দমদম পুরসভা।
সুকান্তর চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, অয়নের সংস্থা এবিএস ইনফোজোন-ই এককভাবে পৌরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার বরাত পেয়েছিল। দাবি করা হয়েছে গোটা বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত।
কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়নমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, এই রাজ্যের পুরো বিষয়ক সমস্ত কিছু নিয়ে বিশেষ আর্থিক তদন্ত করুক কেন্দ্র। হিসাব না মেলা পর্যন্ত টাকা পাঠানো বন্ধ করা হোক। সভাপতি আরও দাবি করেছেন, ইডি এখনো পর্যন্ত নিয়োগ দুর্নীতির অংক সাড়ে ৩০০ কোটির বেশি বলে জানালেও তাদের অনুমান দুর্নীতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি।
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পৌরসভায় অন্তত ৫ হাজার চাকরি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ৬০টি পৌরসভায় ৫ হাজার চাকরি বিক্রির মিডিলম্যান ছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অয়ন শীল। এই দাবি করেছে ইডি। কিন্তু কলকাতা পৌরসভার নিয়োগেও কি এই অয়ন প্রভাব খাটিয়েছিল? কারণ ইডির সিজার লিস্টে উল্লেখ রয়েছে, অয়নের অফিসে তল্লাশির সময় পাওয়া গেছে কলকাতা পুরসভার মেয়রকে দেওয়া একটি চিঠি লিখেছেন এক চাকরি প্রার্থী। এছাড়া পাওয়া গেছে একটি ড্রাফট লেটার, যেটা প্রণব নামে কেউ একজন পাঠিয়েছেন মেয়রকে। তাহলে কি কলকাতা পৌরসভার অন্দরেও প্রভাব ছিল অয়নের?

