আমাদের ভারত, ৩ এপ্রিল: হাওড়ার পর রিষড়াতেও যেতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু আজ তিনি দলের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে রাস্তায় বসে পড়েন। দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা আজ তিনি অবস্থান বিক্ষোভ করেন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার শ্রীরামপুর বটতলায় ফের ধর্নায় বসবেন। আর সেই ধর্না প্রয়োজনে অনির্দিষ্ট কাল ধরে চলবে।

সূত্রের খবর, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা আজ সুকান্তকে ফোন করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজ নেন। রবিবার সন্ধ্যায় বাজার এলাকায় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। তারপর ঐ এলাকার ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জারি হয় ১৪৪ ধারা।
এরপর সোমবার সকালে রিষড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন সুকান্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। কিন্তু পথে বিশালাক্ষীতলায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে পুলিশের সাথে বচসা শুরু হয় সুকান্তর। বিজেপির রাজ্য সভাপতি পুলিশকে বলেন, “যদি মনে হয় ১৪৪ ধারা ভাঙছি তাহলে পদক্ষেপ করুন। আমরা ভাঙিনি। দু’জন জনপ্রতিনিধি যেতে চান, তাদের আটকাচ্ছেন। পুলিশ হয়ে আইন ভাঙছেন। জনপ্রতিনিধির অধিকার কাড়ছেন।”

তারপরেই বিক্ষোভ শুরু করেন সুকান্ত। তিনি জানান, ১৪৪ ধারা যেখানে নেই সেখানেই যেতে চেয়েছেন অথচ আটকানো হয়েছে। অন্যদিকে ১৪৪ ধারা জারি সত্ত্বেও কিছু জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। তাঁর কথায়, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, যেখানে ১৪৪ ধারা নেই সেখানে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করব। অনেকেই আহত হয়েছেন আমাদের ১৪৪ ধারার অজুহাত দিয়ে আটকানো হয়েছে। অথচ যেখানে ১৪৪ ধারা জারি সেখানে তৃণমূল ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
সুকান্তদের অবস্থানের সময় জিটি রোডে যানজট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার জন্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি পুলিশকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, “আমরা রাস্তা ছেড়ে রেখেছিলাম যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়। পুলিশি রাস্তা আটকে জনসাধারণের অসুবিধা করছে। পুলিশ আর তৃণমূলের তরফে প্রচার করা হচ্ছে আমরা রাস্তা আটকে রাখছি, কিন্তু রাস্তায় বসতে বাধ্য হয়েছি আমরা। এই অবস্থান সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তুলে নিচ্ছি।”
এরপরই তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে আবার ধর্নায় বসবেন তিনি। সুকান্তের কথায়, “মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে অবস্থান শুরু করব। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল হবে। যদি পুলিশ গ্রেপ্তার করা বন্ধ না করে, যারা মার খেলো তাদের ধরছে পুলিশ। পুলিশ রিপোর্ট দিচ্ছে সব জায়গায় শান্তি। কোথাও শান্তি নেই। তাই প্রতিবাদে ধর্নায় বসবো।”

