আমাদের ভারত, ১০ মার্চ: উত্তরপ্রদেশের মত বাংলাতেও বুলডোজার সরকার দরকার। প্রায় একথা বলতে শোনা যায় রাজ্যের বিজেপি নেতাদের। কিন্তু ভোটের আগে এবার সেই বুলডোজারে চেপে পরিবর্তন যাত্রায় অংশগ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতিকে মূর্ত করে তুললেন এই বঙ্গ বিজেপি নেতা।
বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার সুপুর এলাকায় সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে পৌঁছান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। সুপুরে পরিবর্তন যাত্রার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল একটি বুলডোজার। সুপুরে পৌঁছাতেই পরিবর্তন যাত্রার বিশেষ যান ছেড়ে ওই বুলডোজারে চেপে পড়েন সুকান্ত মজুমদার সহ দলের জেলা নেতৃত্ব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। তিনি একসময় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বুলডোজারে চেপে বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করেন তাঁরা। বুলডোজার করেই তাঁরা মঞ্চে পৌঁছান।
পরে তাঁর বুলডোজারে চড়া নিয়ে সুকান্তবাবু বলেন, কর্মীরা আবদার করেছিল। কর্মীরা আয়োজন করেছিল, সেই জন্য বুলডোরে চড়ে এসেছি। এই রাজ্যের মানুষ চাইছেন বুলডোজার সরকার। তৃণমূল সরকারকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার স্লোগান সম্মিলিত প্যাকার্ডও ছিল এলাকায়। বেশ কিছুটা পথ এই অভিনব উপায়ে অতিক্রম করে মঞ্চে পৌঁছান বিজেপি নেতৃত্বরা। তারপর মঞ্চে উঠে শুরু হয় জনসভা।
যোগী আদিত্যনাথের বুলডোজার নীতি বেশ কিছু ক্ষেত্রে জনসমর্থন পেয়েছে। আবার কখনো কখনো সমালোচিত হয়েছে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কলকাতা পৌরসভাকে অবৈধ নির্মাণ ভাঙ্গার নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেছেন, দরকার পড়লে যোগী আদিত্যনাথের থেকে কিছু বুলডোজার ভাড়া করুন। আবার কখনো সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, এই বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে। কিন্তু নিজের নীতিতে অনড় থেকেছেন যোগী আদিত্যনাথ। যোগীর দেখানো পথে হাঁটতে শুরু করেছেন অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির প্রশাসনও। যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় নেই, সেখানেও কর্মী সমর্থকরা বুলডোজার প্রয়োগের দাবিতে সরব হয়েছেন। জন সংযোগে কেউ কেউ বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়েছেন। এবার সেই দৃশ্যের সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। যোগীর প্রিয় বুলডোজারে চেপেই বিজেপি নেতৃত্বরা মঞ্চে পৌঁছোলেন।
তবে রানিবাঁধের জনসভায় কেবল বুলডোজারই নজর কেড়েছে তা নয়, সোমবার আরো এক দৃশ্য সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে রাজ্য রাজনীতির স্মৃতিপটে থেকে গেল। মাটির ভান্ডার হাতে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন তিনি। তার গায়ে সাদা কাগজে ছাপার অক্ষরে লেখা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। তিন হাজার টাকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি এতদিন বিজেপির মৌখিক ছিল তা এবার মূর্ত করে ধরার চেষ্টা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। ক্ষমতায় এলে মহিলাদের দেড় হাজার টাকার বদলে বিজেপি যে তিন হাজার টাকা করে ভাতার বন্দোবস্ত করবে সে কথা আগের চেয়েও জোর দিয়ে বলেছে পদ্ম শিবির। এবার সেটাই রানীবাঁধের জনসভায় আরো একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

