আমাদের ভারত, ২০ ফেব্রুয়ারি: তার কাঁধে দেশের সর্ববৃহৎ দলের এক রাজ্যের দায়িত্ব রয়েছে। তবে এই গুরু দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি বালুরঘাটের সাংসদ। এলাকার বুবুনকে এলাকার মানুষ বেছে নিয়েছিলেন নিজেদের আশা পূরণের লক্ষ্যে। সেই আশা পূরণে যেনো কোনো ফাঁক না থেকে যায় তার চেষ্টায় কোনো কসুর করেননি সুকান্ত। বার বার তাকে দেখা গেছে বালুরঘাটের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ করতে। রাজ্য সভাপতি হিসেবে বড় দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষের দুঃখ সুখের সঙ্গী হতেও দেখা গেছে তাকে বারবার। হাজার কাজের মাঝে নিয়মিত তিনি এলাকায় সময় দেন। কারণ এলাকার মানুষের ভোটেই তিনি আজ রাজ্য রাজনীতির অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছেন। তবে সামনে মহারণ, পঞ্চায়েত আর লোকসভা নির্বাচন। তাই জনসংযোগের নতুন পন্থা নিজেই ভেবে বের করে সফল ভাবেই তা বাস্তবায়ন করলেন অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদার। পাড়ায় সুকান্ত কর্মসূচি একাধারে যেমন তাকে এলাকায় জনপ্রিয়তায় আরও এগিয়ে দিল, তেমনি সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাবনায় তৈরি এই কর্মসূচি যে দলীয় নেতৃত্বের নজর কাড়বে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দিন এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে ক্রমে এগিয়ে আসছে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন। জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূলের তরফে দিদির দূত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তৃণমূলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের চুড়ান্ত ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে পাড়ায় সুকান্ত কর্মসূচি নিয়ে যথার্থ ভাবেই মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদারের মস্তিষ্ক প্রসূত এই কর্মসূচির আওতায় তিনি পাড়ায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সুবিধা ও অসুবিধা জেনেছেন। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সব মানুষ কেন্দ্র সরকারের সব পরিষেবা পাচ্ছেন কি না খোঁজ নিয়েছেন।
তবে এই কর্মসূচিতে শুধুমাত্র পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে তা নয়, ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মাঠে নেমেছেন সুকান্তরা। সেই কারণে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে পাড়ায় সুকান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি শুরুর আগে পোস্টার ব্যানারও পড়েছিল। শুক্র, শনি, রবি তিন দিন এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বালুরঘাটের বিভিন্ন এলাকায়। সুকান্ত বলেছেন, নিজের লোকসভা এলাকার জন্য এই কর্মসূচি তিনি চালু করলেও আগামীতে রাজ্যের জন্য বাস্তবায়ন করার কথা নিশ্চিতভাবেই ভাবা হবে।
সুকান্ত বলেন,”আমার লোকসভা কেন্দ্রে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধা অসুবিধার কথা শোনা, তাদের বিভিন্ন সার্টিফিকেট দেওয়া, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পগুলির সুবিধা যারা পাননি তাদের সুবিধা প্রদান করাই লক্ষ্য এই কর্মসূচির।”
এই পাড়ায় পাড়ায় কর্মসূচি শুরু করতেই সাফল্য পেয়েছেন সুকান্ত। শনিবার আরএসপি থেকে প্রায় ১০৫ জন আদিবাসী কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন বালুঘাটের সংসার সুকান্ত মজুমদার। এই ধরণের কর্মসূচির সাফল্য প্রমাণ করে এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা। সেক্ষেত্রে ভালোভাবেই যে পাশ করেছেন সুকান্ত সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

