নয়া রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ সুকান্ত’র, রাজ্যে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্বলিত ৬৩ পাতার রিপোর্ট দিলেন সিভি আনন্দ বোসকে

আমাদের ভারত, ১ ডিসেম্বর: রাজভবনে গিয়ে রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ রাজভবনে যান সুকান্ত। রাজভবন থেকে বেরিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ৬৩ পাতার একটি রিপোর্ট রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সেই রিপোর্টে রাজ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বালুরঘাটের সংসদ।

তিনি বলেন, “রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যপালকে জানানো দরকার। রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা ধীরে ধীরে আইসিইউতে চলে যাচ্ছে। সরকারি কর্মীদের ডিএ দিতে পারছে না। রাজ্যের যে সমস্ত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে সেগুলিতে যা যা সুবিধা পাওয়া উচিত তা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি, শিল্প বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষির পরিকাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কিষান যোজনা সহজে চালু করতে দেয়নি। শিল্পকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এসব কিছু জানিয়ে ৬৩ পাতার নথি রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়েছি আমরা।”

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শাসক দল তৃণমূলকে একাধিক ইস্যুতে কটাক্ষ করেন। কর্মসংস্থান ইস্যুতে তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে শিক্ষিত যুবকরা চাকরি না পেয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। রাজ্যে বোমা বারুদের শিল্প চলছে। একের পর এক জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার হচ্ছে। তাঁর দাবি, বোমা বন্দুকের দমেই আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি জানান, এই সমস্ত বিষয়ে রাজ্যপালকে অবগত করেছেন তারা।

রাজ্যের পূর্ববর্তী রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে নজির বিহীন মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল নবান্নের। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, রাজ্যপাল বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের মতো আচরণ করছেন। এমনকি তাঁকে তারা পদ্মপাল বলেও সম্বধন করে কটাক্ষ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্যপালপদকে কালিমালিপ্ত করেছে তৃণমূল। কবে শাসক দলের কোন নেতা কীভাবে সাংবিধানিক প্রধানকে আক্রমণ করেছিলেন তা যাবতীয় তথ্য তিনি আনন্দকে দিয়ে এসেছেন বলেও জানিয়েছেন সুকান্ত।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যের প্রশংসা করে রাজ্যপাল বলেন, বাংলাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। এ প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ, নজরুলের বাংলা বরাবর দেশকে পথ দেখিয়েছে, কিন্তু আজকের এই বাংলা দেশকে পথ দেখাতে পারবে না। বরং তার দাবি, বিজেপির নেতৃত্বে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলার গৌরব বৃদ্ধি পাবে।

রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে তাদের আসন বন্টন নিয়ে তাদের অসম্মান করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাননি সুকান্ত শুভেন্দু। শপথ গ্রহণের দিন বিকেলে শুভেন্দু সাক্ষাৎ করেছিলেন রাজ্যপালের সঙ্গে আজ ৬৩ পাতার রিপোর্ট নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন সুকান্ত মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *