গণতন্ত্রের উপর চরম আঘাত, মোমিনপুর কাণ্ডের ছবি পোস্টের অভিযোগে সাংবাদিককে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে সরব সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ১৪ অক্টোবর: সোশ্যাল মিডিয়ায় মোমিনপুর হিংসার ছবি ও ভিডিও নিয়ে ইউটিউবে খবর করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশ সাংবাদিক তথা ইউটিউবার মানব গুহকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের অভিযোগ, মানব গুহর এই ভিডিও এবং ছবিগুলি হিংসাকে উস্কানি দিতে পারে। “আজতকে” এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার অভিযোগ, এই ঘটনা গণতন্ত্রের উপর চরম আঘাতের সামিল। আগামী দিন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নামবে বিজেপি।

পুলিশের দাবি, মোমিনপুরের ঘটনার ছবি ও ভিডিও সমাজে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই মানব গুহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই এই ঘটনাকে সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজ্যে যে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়েছে সেই ঘটনা মিডিয়ার সামনে যাতে না আসে তার সব রকম চেষ্টা রাজ্য সরকার করেছে।” কিন্তু তারপরও মানুষ ঘটনা সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ জেনেছে। ফলে সেটাকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সাংবাদিক মানব গুহকে গ্রেপ্তার করা আসলে গণতন্ত্রের উপর চরম আঘাত। এর প্রতিবাদে বিজেপি আগামী দিনে রাস্তায় নামবে।” এই ঘটনার নিন্দা করে একটি টুইটও করেছেন সুকান্ত। সেখানেও এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের কন্ঠ রোধ করার সামিল বলেই দাবি করেছেন তিনি।

৯ অক্টোবর মোমিনপুর এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয় লক্ষ্মী পুজোর দিন। হিংসা ছড়ায় এলাকায়। পুজোর দিন রাতে একবালপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা। একে অপরের বিরুদ্ধে ইটপাটকেলও ছুড়েছে। এমনকি গুলি বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির নেতৃত্ব দাবি করেছেন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এক আইপিএসের পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে পরের দিন ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই সুকান্ত মজুমদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় চল্লিশের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত সকলকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মারপিট এবং সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, মোট ৬টি দোকান ভাঙ্গচুর হয়েছে এবং কুড়িটি বাইক ভাঙ্গা হয়েছে। এছাড়াও আরও দুটি বাইকে আগুন লাগানো হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে।

এই ঘটনার রাত থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ঘটনাকে ১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর দাঙ্গার সঙ্গে তুলনা করেছেন তারা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *