আমাদের ভারত, ৮ মার্চ: জনসংযোগ নয় তোলা সংযোগে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। নতুন সরকারের বর্ষপূর্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসংযোগের পরিকল্পনাকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার কথায় আগামী দিনে কোথা থেকে তোলা তুলবে তৃণমূলের কর্মীরা সেটা খতিয়ে দেখতেই এই কর্মসূচি পালন করার ডাক দেওয়া হয়েছে।
একুশে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। নতুন সরকারের এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন নতুন সরকারের এক বছর উপলক্ষে ৫মে থেকে ২১জুলাই পর্যন্ত জনসংযোগ হবে। দলের নেতা মন্ত্রী কর্মীদের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে। তার কথায় রাজনীতি সেবা করার জায়গা। তাই জনসংযোগ বাড়াতে হবে।
কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর এই জনসংযোগ কর্মসূচির ঘোষণাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার কথায় জনসংযোগ নয় তোলা সংযোগে নামবে তৃণমূল। কোথাও কোনো ছোটো খাটো কারখানা হয়েছে কিনা সেই সব খবরাখবর নিয়ে রাখবেন যাতে আগামী দিনে সেখান থেকে তৃণমূলের কর্মীরা তোলা তুলতে পারেন।
এর পাশাপাশি সদ্যসমাপ্ত পুরভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে আরও একবার সরব হন সুকান্ত। তিনি বলেন, পুরভোটে কি হয়েছে সবাই দেখেছে। পুরভোটে বিদায় তৃণমূল কাউন্সিলরের মেয়ে বলেছে তার স্বর্গীয় বাবা এসে ভোট দিয়ে গেছে। তাহলেই বোঝা যাচ্ছে কেমন ভোট হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার মনে করিয়ে দেন, “ভিভিপ্যাট যুক্ত আধুনিক ভোট মেশিনে ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বুথে হেরেছিলেন। ওনার মত দোর্দণ্ডপ্রতাপ ৩০-৪০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ননেত্রীও নিজের বুথে হেরে গিয়েছিলেন”।
সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেছেন, বাংলা অর্থনৈতিক উন্নতি অবরুদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি রোজগারের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামে গেলে বোঝা যায় গত দশ বছরে পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যদের সম্পত্তির পরিমাণ কি হারে বেড়েছে। এক্ষেত্রে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ৭০ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজনীতিতে এসেছিলেন তখন তার পরিবারের অবস্থা কেমন ছিল, আর এখন কি হয়েছে?
তিনি দাবি করেছেন চার রাজ্যের ভোটে ভালো ফল করবে বিজেপি। একই সঙ্গে তার দাবি গোয়ায় মাত্র দুটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস ফাইট দিতে পারে এর চেয়ে বেশি কিছু হবে না।

