এক সপ্তাহে ২৬ জন খুন! জম্মু কাশ্মীরের সাথে তুলনা টেনে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা অবনতি নিয়ে সরব সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ:রামপুরহাটের বগটুইয়ের ঘটনা নিয়ে লোকসভার পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনেও রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত।লোকসভায় তিনি পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।অন্যদিকে সাংবাদিক সম্মেলনেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা চরম অব্যবস্থার পরিসংখ্যান উল্লেখ করে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বগটুইয়ের ঘটনায় আজ সংসদ ভবন চত্বরে প্রতিবাদ দেখায় বিজেপি সাংসদরা।

সাংবাদিকদের সুকান্ত মজুমদার বলেন, “রাজ্যের বদনাম হয়ে গিয়েছে। এক সপ্তাহের রাজ্যে ২৬ জন খুন হয়েছেন। যা কিনা জম্মু-কাশ্মীরেও হয়নি”। সুকান্ত বাবু বলেন, “ওই এলাকাটি আমরা সবচেয়ে অশান্ত এলাকা বলে মনে করি। সেখানে এক সপ্তাহে ২৬ জন খুন হয়েছে। দেখান তো ভারতের এমন কোনো রাজ্য যেখানে এক সপ্তাহে ২০ জন খুন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে দেখান।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উপর মুখ্যমন্ত্রীর কোন নিয়ন্ত্রন নেই। তিনি জানান, ওই গ্রামে ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের দাবি ওইদিন আরো বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “যখন কোন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এরকম হয়ে যায়, যেখানে নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষিত থাকে না, এমনকি তৃণমূল কংগ্রেস করলেও থাকে না, এরকম পরিস্থিতিতে সংবিধানে বেশকিছু ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থাটা উপযুক্ত তার দেখার দায়িত্ব যাদের উপর তারা সেটা করবেন। ওই ব্যবস্থা শুধু সাজিয়ে রাখার জন্য হয়নি, তা প্রয়োগ করার জন্য করা হয়েছে”। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেছেন রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার রাজনীতির শিকার বিজেপি। তার কথায়, “আমাদের কাউন্সিলর খুন হয়েছেন। সাংসদকে বোমার আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে”। তার কথায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে ঠেকেছে।

বৃহস্পতিবার বগটুই যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজই যেতেন কিন্তু আজ সেখানে বিজেপির প্রতিনিধিদল গিয়েছেন তাই সেখানে গিয়ে পায়ে পা ড দিয়ে ঝগড়া করতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এপ্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “উনি আজ বিজেপির প্রতিনিধিদলকে ঢুকতে দেননি। সম্ভবত ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। তবে শুনেছি উনি তো বিমানে এরিয়াল সার্ভে করবেন তাহলে আর ঝগড়া করার কি আছে? ”

বাগটুই গ্রামে রাতভর দুষ্কৃতীদের তান্ডবে চলেছে। কিন্তু পুলিশ সেখানে যায়নি। এটা কিভাবে সম্ভব? এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “ওখানে বীরভূমের যে নেতা রয়েছেন তাঁর অনুমতি ছাড়া ওই জায়গায় পুলিশ যেতে পারবে না। পুলিশের মধ্যে কোন কোয়ার্ডিনেশন নেই। এলাকার মানুষ ভয়ঙ্কর আতঙ্কে রয়েছেন। গ্রামবাসীরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *