দলের প্রার্থীপদ একজন নির্ধারণ করে না, বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতে এটা তৃণমূলের চক্রান্ত, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে পাল্টা সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ১৪ নভেম্বর: পুরভোটে প্রার্থীপদ পাইয়ে দিতে প্রার্থী পিছু এক লক্ষ টাকা করে চেয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। নিজেকে বিজেপির নেতা হিসেবে দাবি করা জনৈক প্রীতম-রক্তিমের (ভিডিওতে এক ব্যাক্তির এই দুই নাম দেখা গেছে। ভিডিও আমাদের ভারত যাচাই করেনি) সঙ্গে এমনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ কলের কথোপকথনের ভিডিও নেট মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপিকে নিশানা করেছে। এর পাল্টা দিতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতে পরিকল্পনা করেই এই কাজ করেছে তৃণমূল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিজেপিতে কোনো একজন ব্যাক্তি প্রার্থীপদ নির্ধারণ করতে পারে না।

নিজেকে বিজেপির নেতা হিসেবে দাবি করা ওই প্রীতম তথা রক্তিমের সঙ্গে আর একজনের হোয়াটসঅ্যাপ কলের ওই কথোপকথনের ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেস অফিশিয়াল টুইটার পেজে পোস্ট করে বিজেপি তথা পদ্মশিবিরের নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেছে। বলাবাহুল্য কলটি হোয়াটসঅ্যাপে করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের কলের কোনো রেকর্ড থাকে না। ওই কলে প্রিতম নামে ব্যাক্তি নিজেকে শুভেন্দু অধিকারী, অনির্বাণ গাঙ্গুলির মতো নেতার ঘনিষ্ঠ তথা শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজোতে যাওয়ার কথাও বলেছেন। তারপর টাকার কথা উল্লেখ করে সুকান্ত মজুমদারের কথা বলেছেন। এই সম্পূর্ণ ভিডিওটি তৃণমূলের তরফে পরিকল্পনা করে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার জন্য করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার দাবি, ভিডিওর ওই প্রীতম এক সময় তৃণমূলের নেতা ছিলেন। দিদির হয়ে বহু কাজ তাকে করতে দেখা গেছে।

সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, “কে বলছে যে এক লক্ষ টাকা করে দিতে হবে? বিজেপির কোনো নেতা বা পদাধিকারী বলেছে?” তিনি বলেন, “রাস্তায় যদি কেউ বলে সুকান্ত মজুমদারকে আমি টাকা দিয়ে দেব, আমার চাকরি হয়ে যাবে বিশ্বাস করবেন কি? পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়?” সুকান্ত মজুমদার জানান, “বিজেপির নির্বাচনে প্রার্থীপদ কোনও একজন ব্যক্তির দ্বারা নির্ধারিত হয় না। অতএব কোনো একজন ব্যক্তি কারো কাছ থেকে টাকা নিলেও তাকে প্রার্থীপদ দিতে পারবে না। তৃণমূল কংগ্রেস কাউকে দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ওটা করছে। বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার জন্য। তৃণমূল কংগ্রেসের এটা প্ল্যানিং।”

রাজ্য বিজেপির সভাপতির অভিযোগ, “যে ভিডিওটি বেরিয়েছে আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন সে আগে তৃণমূল কংগ্রেস করত। যার নামে বলা হচ্ছে যে অমুক ছেলেটা চেয়েছে, আপনারা খবর নিন তিনি এক সময় তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। তিনি একসময় দিদির হয়ে বহু মেলা খেলা অর্গানাইজ করেছেন।”

অন্যদিকে বিজেপির আর এক নেতা, রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেছেন, তিনি ওই নামে কাউকে চেনেন না। তবে ভোটের সময় অনেকেই নাম ভাঙিয়ে টাকা রোজগারের চেষ্টা করেন। রুদ্রনীল ঘোষ পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন বলেন, “যে প্রীতম সরকার ১ লক্ষ টাকা চাইছেন আবার তিনি বলছেন তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং এর কথা। তাহলে কি তৃণমূল দলটাই প্রীতম সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *