আমাদের ভারত, ১২ ডিসেম্বর:বিধানসভা ভোটে জিতে রাজ্যের মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিমাসে মহিলারা ৫০০ টাকা করে হাতখরচ পাচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে। শনিবার গোয়ার মহিলাদের জন্যেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের আদলেই গৃহলক্ষ্মী প্রকল্প ঘোষণা করেছে গোয়া তৃণমূল। তবে সেখানে হাত খরচের অংকটা নেহাত ৫০০ টাকা নয়। গোয়ার মহিলাদের পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, এটা একেবারেই একটি অলীক ঘোষণা। নেহাতই ভোটের গিমিক। কিছু পাওয়ার চেষ্টা। তাঁর দাবি, তৃণমূল খুব ভালো করেই জানে গোয়ায় তারা জিতবে না, আর এই টাকাও তাদের দিতে হবে না।
মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ওনারা যাচ্ছেন যান। বিজেপি ওখানে খুবই শক্তিশালী। মানুষ বুঝতে পারছেন ওনাদের গোয়ায় যাওয়া শুধুমাত্র ভোট বাড়ানোর জন্য। আর সেই কারণেই মানুষকে লোভ দেখানো। যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই সেই রকম ঘোষণা করছে।” গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে সুকান্তবাবু বলেন, “যদি ওনাদের সরকার ক্ষমতায় আসে, প্রত্যেক মহিলাকে নাকি উনি ৫ হাজার টাকা করে দেবেন। যারা সামান্য অর্থনীতি বোঝেন তারা জানেন গোয়ার জনসংখ্যা কত। গোয়ায় কত মহিলা রয়েছে তাদের পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হলে কত লক্ষ কোটি টাকা প্রয়োজন। তার আমদানী কোথা থেকে হবে। এটা অবাস্তব ঘোষণা ছাড়া কিছুই নয়।”
সুকান্তবাবুর দাবি, এটা ভোট বাড়ানোর কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। এই অবাস্তব ঘোষণাটা করার কারণই হচ্ছে ওনারা জানেন যে ওরা ক্ষমতায় আসবেন না, কোনো টাকাও দিতে হবে না।
২০২২-এ গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে গৃহলক্ষী প্রকল্প চালু করা হবে। তৃণমূলের তরফে এমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে এই প্রকল্পের আওতায় মহিলারা ৫ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে পাবেন। অর্থাৎ বছরে ৬০ হাজার টাকা ওই রাজ্যের প্রত্যেক মহিলা পাবেন। এই প্রকল্প যদি চালু হয় তাহলে গোয়ার সাড়ে তিন লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের এই প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমও। তিনি লেখেন, “এই সহজ অংকের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। সাড়ে তিন লক্ষ পরিবারকে মাসে ৫ হাজার টাকা দিলে মাসে খরচ হবে ১৭৫ কোটি টাকা। বছরে টাকার অংক গিয়ে দাঁড়াবে ২১০০ কোটি টাকা। গোয়ার ২০২০ সালের মার্চ অব্দি দেনার পরিমাণ ২৩ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। সেই রাজ্যের জন্য টাকার এই অংক কতটাই না ক্ষুদ্র? এখন কি বলা উচিত? ঈশ্বর গোয়ার মঙ্গল করুন, নাকি ঈশ্বর গোয়াকে বাঁচান।”
চিদাম্বরমের টুইটার পাল্টা টুইট করে মহুয়া মৈত্র বলেন, “হ্যাঁ স্যার সাড়ে তিন লক্ষ পরিবারকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা দিলে ২১০০ কোটি টাকা। খরচ যা হবে তা মোট বাজেটের ৬-৮ শতাংশ। অর্থনীতি বলে করোনা পরবর্তী সময় মানুষের হাতে আরও বেশি করে নগদ টাকা দেওয়ার কথা, কারণ এতে মানুষের সাহায্য হবে।”

