“আমরা পিছপা হতে পারি না”, চিন্তন বৈঠক থেকে দলের নেতাকর্মীদের ‘ধর্মযুদ্ধে’ নামার আহ্বান বিজেপি রাজ্য সভাপতির

আমাদের ভারত, ৫ মার্চ: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ধর্মযুদ্ধে নেমেছে। আর ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে কেউ কাউকে ডাকে না। দলের চিন্তন বৈঠকে এভাবেই নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তুলে ধরলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উক্তি।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ মৃত্যুশয্যায় তার গলার মালা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গলায় পরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন শ্যামা আমি বাঙালিকে বোঝাতে পারলাম না তুমি চেষ্টা করো। সেই মালা গেরুয়া উত্তরীয় হিসেবে আমাদের সবার গলায় রয়েছে। সেই দায়িত্ব আমাদের ওপর রয়েছে। তাই আমরা পিছপা হতে পারি না।” এরপরই বিজেপির নেতা কর্মীদের ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণের ডাক দেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “এটা আমাদের ধর্মযুদ্ধ। ধর্মযুদ্ধতে আমাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ধর্মযুদ্ধে কাউকে ডাকা হয় না। ধর্মযুদ্ধে নিজে থেকে অংশগ্রহণ করতে হয়। আপনাদের সবাইকে সেই যুদ্ধে আহবান জানাচ্ছি।”

পুরভোটে দলের শোচনীয় ফলের জন্য তৃণমূলের সন্ত্রাসকেই দায়ী করেছেন বঙ্গ বিজেপি প্রধান। তাঁর কথায়, বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। রাজ্যে অলিখিত জরুরি অবস্থা চলছে। কিন্তু লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে দলের বিক্ষুব্ধদের প্রতি বার্তা দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, দল কোনও ব্যক্তির নয়, দল টিম ওয়ার্ক। সেই টিমের সিদ্ধান্ত কখনো ভুল হয় আবার কখনো ঠিক হয়। আমরা সাংগঠনিক দল। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি দল নিয়েছে মনে করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানোর তাগিদে সবাইকে একসাথে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান বঙ্গ বিজেপি সভাপতি। আর সেই লড়াইয়ের সফলতা হিসেবেই বাংলায় ক্ষমতায় বিজেপি আসবে বলেও দাবি করেছেন সুকান্ত মজুমদার।

এদিনের চিন্তন বৈঠকে দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, অগ্নিমিত্রা পাল, অমিত মালব্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় এলেও উপস্থিত ছিলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জরুরী কাজ থাকায় বিরোধী দলনেতা চিন্তন বৈঠকে থাকতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে দলের অভ্যন্তরে বলে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *