সাংগঠনিক ব্যর্থতা গালভরা শব্দ, কোনও কাজে লাগে না, ২০১১-তে সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে, সপাটে জবাব সুকান্তের

আমাদের ভারত, ১৬ এপ্রিল: আসানসোলে দ্বিতীয় স্থানে, বালিগঞ্জে তৃতীয় স্থান পেয়েছে বিজেপি। এমনকি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিজেপি প্রার্থীর বালিগঞ্জে। এক কথায় দুটি উপনির্বাচনেই খারাপ ফল হয়েছে পদ্মশিবিরের। সংখ্যালঘু ভোটের তত্ত্ব কিংবা উপনির্বাচনকে হালকাভাবে নিয়েছিল দল? নাকি বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ফুটে উঠল এই নির্বাচনের ফলাফলে? বিরোধীদের কটাক্ষ অথবা দলের অভ্যন্তরে কানাঘুষো উঠে আসা এই প্রশ্নের সপাটে জবাবে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায় সাংগঠনিক ব্যর্থতা গালভরা শব্দ। ২০১১ তৃণমূলের ক্ষমতায় আসা প্রমান করে দিয়েছে সাংগঠনিক শক্তি নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর না। বরং নির্বাচনে জয়ের পেছনে আরও অন্য ফ্যাক্টর কাজ করে বলে দাবি করেছেন সুকান্ত মজুমদার।

দুটি উপনির্বাচনে পরাজয়ের পরেই বিজেপি নেতৃত্বকে সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা মনে করিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে দলের অভ্যন্তরেও সংগঠনের দুর্বলতার জন্য দলীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে। এই সময় কটাক্ষের পাল্টা দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতির সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “সাংগঠনিক ব্যর্থতা গালভরা শব্দ। এগুলো কোনও কাজে লাগে না। ২০১১ সালে তৃণমূল যখন ক্ষমতায় আসে তৃণমূলের একটাও সংগঠন ছিল না। বামফ্রন্টের অনেক ভালো সংগঠন ছিল। তাহলে বামেরা কেন হারল? বামেরা তো সেই সময় সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশী শক্তিশালী ছিল। আসলে নির্বাচন শুধু সংগঠনের উপর হয় না। আরো অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে। ২০১১ সালে তা বুঝিয়ে দিয়েছে। তখন বামফ্রন্টের ক্যাম্প অফিসগুলোতে যে সংখ্যক মানুষ বসতেন তার এক-তৃতীয়াংশ লোক তৃণমূলের ক্যাম্পে ছিল না। তবু তৃণমূল জিতেছে।”

বালিগঞ্জের উপনির্বাচনে পরাজয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একুশের নির্বাচনে প্রবল হাওয়াতেও বালিগঞ্জে আমরা ভোট পেয়ে ছিলাম মাত্র ৩০ হাজার। আমাদের জন্য দারুণ সিট কখনোই ছিল না বালিগঞ্জ। ওখানে সংখ্যালঘু ভোট ৪২%। যারা আমাদের ভোট দেয় না। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে এখন তারা সিপিআইএম এবং কংগ্রেসকে ভোট দিচ্ছে। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট কমছে, আগামী দিনে আরও কমবে।”

কিন্তু আসানসোলের পরাজয়ের বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেছেন, আসানসোলের পাণ্ডবেশ্বর, বারাবনিতে ভোট হয়নি, সংবাদমাধ্যমকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কুলটি, রানীগঞ্জের উপনির্বাচনে শাসকের পক্ষে ভোট পড়েছে।” তবে তিনি দাবি করেছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল আবার বিজেপি দখল করবে। তার কথায়, “২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল আমাদেরই হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *