আমাদের ভারত, ২০ নভেম্বর:এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের ধর্না মঞ্চে আন্দোলনকারীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেখানে গিয়ে আন্দোলকারীদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। রাজ্য সরকারের চাকরি প্রক্রিয়াতে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার নিজেই সঠিক ভাবে জানে না তারা কত শিক্ষক নিয়োগ করবেন,কারণ এক এক জন মন্ত্রী, এক এক জায়গায়, এক এক রকম কথা বলছেন।
শনিবার দুপুরে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আন্দোলনকারীদের ধর্না মঞ্চে যান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। আজ প্রায় ৩৪ দিন ধরে তাদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি জানান, “এসএসসিতে নিয়োগ বেআইনিভাবে হয়েছে বলেই এরা সকলে আমায় জানাচ্ছেন। কীভাবে কী হয়েছে সবই শুনলাম।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মেধাতালিকায় পাঁচ নম্বরে থাকা ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে কেন ১৫ নম্বরকে চাকরি দেওয়া হলো? এমনকি নূন্যতম যে নম্বর না পেলে কোয়ালিফাই করা যায় না সেই রকম প্রার্থীরাও চাকরি পেয়েছে। অথচ ন্যয্য চাকরীর দাবিদারদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এতদিন ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ করতে হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীদের?
তিনি জানান পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে জানাবেন। তার সাথে আশ্বাস দেন, তাদের তরফ থেকে আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে আন্দোলনকারীদের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিযোগের সুরে বলেন, “২০১৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। এখন তিনি ভুলে গিয়েছেন। বুঝতে পারছি কি মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এরা। মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্বেও তাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বেকারত্বের জ্বালা কি সেসব হয়তো ওদের জীবনে ঘটেনি, তাই এদের দুঃখ কষ্ট বুঝতে পারছেন না।”
মেধাতালিকা নাম থাকা সত্বেও চাকরি পাননি। দ্রুত তাদের নিয়োগের দাবিতে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনশন চালাচ্ছেন চাকরি প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী আইন পরিবর্তন করে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখনও পর্যন্ত হয়নি। চাকরি প্রার্থীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ধর্না মঞ্চে হাজির হয়েছেন। তাদের দাবি তৃণমূল বলছে মা মাটি মানুষের সরকার রয়েছে এই রাজ্যে। অথচ সেই বাংলার মায়েরা আজ মাটিতে রয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তাদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হওয়ার আবেদন জানান তিনি।

