রাজ্যের কৃষকরা আত্মহত্যা করছে আর মুখ্যমন্ত্রীর ভাতৃবধূ সমাজ সেবা করেই ১৩টি জমির মালিক , কী ভাবে? প্রশ্ন তুললেন সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত,১৪ ডিসেম্বর: সিঙ্গুরের কৃষকদের একাধিক দাবিকে সামনে রেখে বিজেপি সিঙ্গুরে তিনদিনের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সেই কর্মসূচীর প্রথম দিনেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর নিশানায় ছিলেন মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবার। তিনি অভিযোগ করেন, জমির সার থেকে শুরু করে আলুবীজ সবকিছুতেই কাটমানি আদায় করে রাজ্যের শাসক দল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাতৃবধূ ও ফিরহাদ হাকিমের আয়ের উৎস নিয়েও।

সিঙ্গুরে বক্তব্য রাখার সময় সুকান্ত মজুমদার বলেন, একদিকে কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন অন্যদিকে কলকাতা পৌরসভার নির্বাচনে পেশ করা হলফনামায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের একজন গৃহবধূ তিনি সমাজসেবা করে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ১৩টি জমির মালিক। ভেবে দেখুন সমাজসেবা থেকে যে রোজগার হয় সেটা আমাদের জানা ছিল না। সমাজসেবা করে হয়তো উনি সার্ভিস ট্যাক্স নিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে আমরা দেখছি প্রাক্তন মেয়রের দৈনিক আয় ৩২ হাজার টাকা।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, তৃণমূলের মদতেই রাজ্যে জমির সারের রমরমা কালোবাজারি চলছে। সারের দাম বস্তা প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তার কোনও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না কৃষকদের। আর উপরি এই টাকা দলের সমস্ত স্তরে বিলি হচ্ছে।

শুধু সার নয়, রাজ্যে নিম্নমানের আলু বীজ আমদানি করেই কাটমানি আদায়ের অভিযোগ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, হিমাচল প্রদেশে আলুর বীজ সংরক্ষণ করা হয়। সেখানে যেসব বীজ নষ্ট বলে ফেলে দেওয়া হয় সেগুলি কম পয়সায় কিনে আনছে এই রাজ্যের একাধিক ব্যবসায়ী। তারপর তা ভালো আলুবীজের দরেই বিক্রি করা হচ্ছে। আর এর লভ্যাংশ যাচ্ছে তৃণমূলের নেতাদের ঘরে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজ্যের কৃষকদের পাশে থেকে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামীকালের মধ্যে সিঙ্গুরে মঞ্চ বাধা ও কর্মীদের রাতে থাকার ব্যবস্থাও শেষ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *