মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা চলছে, মমতাকে হীরক রাজার সঙ্গে তুলনা করে তোপ সুকান্ত মজুমদারের

আমাদের ভারত, ১০ মে: পড়াশোনা করে যে, অনাহারে মরে সে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার সঙ্গে তুলনা করলেন সুকান্ত মজুমদার। বললেন দিনের পর দিন নানা অজুহাতে স্কুল বন্ধ রেখে আসলে হীরক রাজার মতো রাজ্যের নয়া প্রজন্মের মগজ ধোলাই করতে চাইছে তৃণমূল সুপ্রিমো। রানী রাসমণির ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হীরক রানী বলে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, তার এই মগজ ধোলাইয়ের বিরুদ্ধে উদয়ন পন্ডিতের মতো প্রতিবাদে সোচ্চার হবে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা।

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ ছিল। মাত্র দু’মাস স্কুল শুরু হয়েছিল। কিন্তু গরমের কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের স্কুল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই সিদ্ধান্তের অনেকেই বিরোধিতা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত ছাত্র সমাজের জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একটা বড় অংশ। তাদের অভিযোগ, এর ফলে পিছিয়ে যাবে রাজ্যের বর্তমান প্রজন্ম। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতিও। ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃতদের পরিবার পরিজনদের সাথে নিয়ে রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বসে বিজেপি। সেই মঞ্চে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে এখানে হীরক রানীর শাসন চলবে। আর যারা এটা মানবে না তাদের মগজ ধোলাই করা হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দ্যেশ্যে বলেন, “সত্যজিত রায়ের সিনেমায় যেমন উদয়ন পন্ডিত ছিল। ভারতীয় জনতা পার্টির এক একজন কর্মী উদয়ন পন্ডিত হয়ে আপনার মগজ ধোলাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হবে। আপনার হীরক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।”

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কথায় কথায় স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার কারণ হলো যে যত পড়ে ততো জানে আর তত কম মানে। সত্যজিৎ রায় তার সিনেমায় যে হীরক রাজাকে দেখিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও সেই হীরক রাজা হয়ে উঠেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ব্যাঙ হিসু করলেও স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের এই কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণের মতো পথ দেখাবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিন্তু অর্জুনের মতো কুরুক্ষেত্রের লড়াইটা লড়তে হবে বঙ্গ বিজেপিকেই। তাঁর কথায়, “অমিত শাহ কয়েকদিন আগে এসে বলে গেছেন এই লড়াই থামানো যাবে না। লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের চোখে চোখ রেখে আমাদের আগামীদিনের লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস বাধ্য হবে পরাজয় শিকার করতে। মনে রাখতে হবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধটা অর্জুনকেই করতে হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শুধু পথ দেখিয়েছিলেন। তাই এই কুরুক্ষেত্রে তৃণমূলের মত কৌরবদের বিরুদ্ধে যদি আমাদের জিততে হয় আমাদের একেক জনকে অর্জুন হয়ে লড়াই করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *