এখুনি সতর্ক হন তৃণমূলের “সভ্য” নেতারা, নাহলে পিসি-ভাইপোর অন্তর্দ্বন্দ্বে “খবর” হয়ে যেতে পারেন: সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ৩০ জানুয়ারি: উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের তৃণমূল নেতা খুনে পুলিশ বিজেপি কর্মী বিজয় মুখার্জিকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই খুনের ঘটনায় দলের যোগসুত্র সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই খুন হয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।

ইছাপুরের এই খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে মমতা অভিষেকের সম্পর্কের অন্তর্দ্বন্দকে দায়ী করেছেন সুকান্ত মজুমদার। নাম না করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দাবি করেন, সংগঠন নিয়ে তৃণমূলের পিসি ভাইপোর মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই লড়াই আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর আকার নেবে।তৃণমূলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শের সুরে তিনি বলেন, “কিছুটা অযাচিতভাবে বলছি, তৃণমূলের সভ্য নেতারা পার্টি থেকে দূরে থাকুন। তা নাহলে আপনারাও কোনওদিন না কোনদিন খবর হয়ে যাবেন।” নাম না করলেও সুকান্ত মজুমদার পিসি ভাইপোর অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই এই তৃণমূল নেতা খুন হয়েছে বলে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন।

ইছাপুরের তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং এর হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই মন্তব্যের নিন্দা করে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি বলেন, “একজন নির্বাচিত সংসদ সম্পর্কে এই ধরনের অভিযোগ গণতন্ত্রের জন্য সমীচীন নয়। লোকে তাকে ভোট দিয়ে সাংসদ করেছেন, অর্জুন সিং এর আগে কয়েকবার বিধায়ক হয়েছেন। তাই জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।” জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের উদ্দেশ্যে পাল্টা আক্রমণের সুরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ওনার সম্পর্কেও তো অনেক কথা শোনা যায়। উনি খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ সীমান্তে চাল ধরা পড়েছিল। মিডিয়ার সামনে পুরনো কাসুন্দি ঘাটলে কি ভালো লাগবে?”

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপি কেন ইছাপুরের তৃণমূল নেতাকে গুলি করতে যাবে? ৪২ টি সাংগঠনিক জেলার বহু বিজেপি কর্মী এখনও ঘরছাড়া। বিজেপি যদি গুলি করত তাহলে দলের এত কর্মী-সমর্থক বিধানসভা ভোটের পরে এভাবে ঘরছাড়া থাকত না।

শনিবার পার্টি অফিস থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন
দাপুটে তৃণমূল নেতা গোপাল মজুমদার। দুই দুষ্কৃতি বাইক নিয়ে তার পথ আটকায়। প্রথমে তাকে গুলি করা হলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ মারা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তৃণমূল নেতার। এই খুনের ঘটনায় পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি নেতা বিজয় মুখার্জিকে আটক করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *