আমাদের ভারত, ১০ অক্টোবর: কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার দিন হিংসার ঘটনা ঘটে মোমিনপুর একবালপুর এলাকায়। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন বিজেপি নেতারা। একের পর এক টুইট করে রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরতে থাকেন পদ্ম নেতারা। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি গোটা ঘটনাকে শাসক দল তৃণমূলের স্পন্সরড দাঙ্গা বলে অভিহিত করেছেন।
রবিবারের হিংসার ঘটনার পর সোমবার সকালে মোমিনপুর যাওয়ার চেষ্টা করেন সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু তাঁকে রাস্তায় চিংড়ি ঘাটায় পুলিশ গ্রেফতার করে। এর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, মোমিনপুর হিংসা আসলে তৃণমূল প্রযোজিত দাঙ্গা। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি সরব হন। তাঁর কথায়, “এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। নবান্ন অভিযানের সময় পুলিশ যে অতি সক্রিয়তা দেখিয়েছিল, সেই ধরণের অতি সক্রিয়তা কিন্তু আমরা এখনে দেখতে পাচ্ছি না। বরং যারা উপদ্রবকারী অর্থাৎ হুলিগান্সদের সামনে পুলিশ সম্পূর্ণরূপে সারেন্ডার করে দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “আমার কাছে যতদূর খবর, পুলিশের এক সিনিয়র অফিসারের মাথা ফেটেছে। বাকি পুরো ঘটনা মিডিয়ার কাছে চেপে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে ন্যাশনাল মিডিয়াতে খবরটি প্রকাশিত হবার পর পুরো ঘটনাটি দেশের সামনে চলে এসেছে।”
তিনি দাবি করেন, “ওখানকার স্থানীয় মুসলিম যুবকরা এই দাঙ্গার জন্য দায়ী করে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে নামগুলো ভাসিয়ে দিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই দেখা যাচ্ছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরের আত্মীয় অথবা ফিরহাদ হাকিম সাহেবের খুব কাছের বন্ধু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের পুজো উদ্বোধনের জন্য গেছেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এটা শাসক প্রযোজিত টিএমসি স্পন্সরড দাঙ্গা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “আমরা চাই পুলিশের পক্ষে যদি সম্ভব না হয় তাহলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে নামানো হোক।”
আরও পড়ুন
Noakhali. “মালাউন মেয়েগুলোর গন্ধ আমার ভালো লাগে, ব্রাহ্মণ হোক আর চাঁড়াল হোক আর কৈবর্ত, যাই হোক”
প্রসঙ্গত, এই ঘটনা সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও যেগুলি সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে রাস্তার উপর থাকা বিশাল বাসের কাঠামো ঝাঁকিয়ে ফেলে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে এগুলি দুর্গাপুজার মন্ডপের গেট। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে একদল দুষ্কৃতীকে ইটপাটকেল ছুড়তে। একবালপুর থানায় ঘেরাও হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতেও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি করে অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই ইস্যুতে তিনি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর অভিযোগ এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য পুলিশ ব্যর্থ।
রাতের অন্ধকারে একদল দুষ্কৃতী একের পর এক মোটর বাইক, দোকান রাস্তার পাশে থাকা গুমটি ভাঙ্গচুর করে। সুকান্ত মজুমদার লক্ষ্মীপুজোর সকালে এই নিয়ে নিজের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে সরব হন। দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কার্যত বনধের চেহারা নেয় মোমিনপুর। হিংসা মোকাবিলায় পুলিশের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে টুইট করতে থাকেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। স্বাধীনতার সময় নোয়াখালিতে ১০ অক্টোবর বিরাট দাঙ্গা হয়েছিল। সেখানে অসংখ্য হিন্দুদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। জখম হয়েছিল অসংখ্য হিন্দু। এবার লক্ষ্মী পুজোর দিন সেই দিনটি পড়েছিল। বিজেপির তরফে টুইটারে করা একের পর এক পোস্টে মোমিনপুর হিংসাকে নোয়াখালি হিংসার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

