সঙ্গে আমি যাব, ঝাঁটা লাঠি ঝাণ্ডা নিয়ে পঞ্চায়েতে নমিনেশন জমা দিতে যাওয়ার পরামর্শ সুকান্ত মজুমদারের

আমাদের ভারত, ৩ জানুয়ারি: ঝাঁটা লাঠি ঝান্ডা হাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনের নমিনেশন জমা দিতে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন সুকান্ত মজুমদার। বললেন নমিনেশন জমা দিতে যাওয়ার সময় তিনি সঙ্গে থাকবেন, কোন তৃণমূল নেতা তাদের আটকায় দেখি। আজ বালুরঘাটের সভা থেকে এভাবেই হুঙ্কার দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে ভয় দেখিয়ে নমিনেশন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। এর ফলে অর্ধেক আসনে নমিনেশন জমা দিতে পারেনি বিরোধীরা। কিন্তু এবার প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পদ্ম শিবির। আজ বালুরঘাটের সভা থেকে সেই বার্তাই দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। একই সঙ্গে নমিনেশন জমা দিতে যাওয়ার পথে বাধা পেলে সেটা কিভাবে উতরাতে হবে তার পথও বাতলে দিয়েছেন তিনি। তার কথায়, “নমিনেশনে আমি যাব। আমার সাথে যাবেন, সঙ্গে হাতে ঝাঁটা, ডান্ডা, ঝান্ডা নিয়ে যাবেন। কোন তৃণমূল নেতা নমিনেশনে আটকায় আমরা দেখে নেব।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি মাস্টার মশাই অনেক বদমাইশ ছাত্রকে পথে এনেছি। এবারেও দেখে নেবো কিভাবে এদের সামলাতে হয়।

এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, কলকাতার বাবুরাই শুধু মন্ত্রী হন। উত্তরবঙ্গকে অবহেলায় রাখা হয়।মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে মাঝেমধ্যে আসেন পর্যটনের জন্য, মোমো তৈরি করে খান ও খাওয়ান আর চলে যান।
কিন্তু এখান থেকে কোনো বড় মন্ত্রী পাওয়া যায় না রাজ্যে। কলকাতার ৩০ কিলোমিটারের মধ্যেই বড় বড় দপ্তরের মন্ত্রীরা থাকেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় আসার সময় তৃণমূল কংগ্রেস বলেছিল, ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে শিল্প হবে। কিন্তু দিনের পর দিন গেছে কোনো শিল্প দেখা যায়নি বরং সব ফাঁকা হয়ে গেছে। শিল্পের ধোঁয়া দেখা যায় না উল্টে রাজ্যের কোষাগারকে ধোঁয়ায় পরিণত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। রাজ্যের কোনো টাকা পয়সা নেই।

রাজ্য বার বার কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বলে কেন্দ্র টাকা দেয় না। আজ এর পাল্টা জবাব দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যের যে আয় তার ৫৫ শতাংশ আসে কেন্দ্রের কাছ থেকে।” তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার ঘর দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৮২০০ কোটি টাকা দিয়ে। এই ঘর আদায় করতে বিজেপির কর্মীরা সাধারণ মানুষের সাথে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এদিনের সভা থেকে তিনি জোর করে বালুরঘাটে ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বালুরঘাটে কলেজের কাছে ফ্ল্যাট হচ্ছে, সেই ফ্লাটে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলের তরফে। তিনি মনে করিয়ে দেন, যে কারণে বাংলাদেশ থেকে বালুরঘাটে আসতে হয়েছিল সেই কারণ যাতে ফের বালুরঘাটে না ঘটে তার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বালুরঘাটের মানুষকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *