সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৪ ফেব্রুয়ারি: বারাসতে এক জনসভায় অংশ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সুকান্ত মজুমদার। সভামঞ্চ থেকে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্য দিকে হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির বৈঠকে ছিলেন প্রাক্তন চিপ সেক্রেটারি মনোজ পন্থ। ‘কোন পদাধিকার বলে বৈঠকে ছিলেন পন্থ? সুপ্রিম কোর্টের ঠিক করে দেওয়া তালিকা লঙ্ঘন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্য সচিবের বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবি তোলেন সুকান্ত মজুমদার।
সুপ্রিম নির্দেশে হাইকোর্টের বিচারপতির উপস্থিতিতে কারা কারা এস আই আরের কাজে নিযুক্ত থাকবে তা এক বৈঠকের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। যে বৈঠক হয়েছে গতকাল। আর সেই বৈঠকে মনোজ পন্থ উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে তেমমটাই জানতে পারেন সুকান্ত মজুমদার। এই বৈঠকে মনোজ পন্থের উপস্থিতি সম্পূর্ণ রুপে বেআইনি। তিনি কোন পদাধিকারী বলে উপস্থিত ছিলেন? প্রশ্ন তোলেন সুকান্ত মজুমদার।
বর্তমানে মনোজ পন্থ চিপ সেক্রেটারি নেই। মনোজ পন্থ সহ আন অথরাইজড পার্সনকে এই মিটিংয়ে উপস্থিত করে হাইকোর্টের চিপ জাস্টিস- এর উপর চাপ সৃষ্টি করছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। সুপ্রিম কোর্টের ঠিক করে দেওয়া সূচির বাইরে যারা উপস্থিত থাকবেন, বিশেষ করে মনোজ পন্থের বিরুদ্ধে এফআইআর করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দলীয় কর্মীদের সংগঠিত হয়ে আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন। সভায় বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বারাসত ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় পতাকা ও ব্যানার হাতে মানুষ সভাস্থলে ভিড় জমান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সভা উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। যার প্রেক্ষিতে এই সভাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

