আমাদের ভারত, ৩ জানুয়ারি: হাতে মাত্র আর কটা মাস। তারপরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই নতুন বছরের শুরুতেই ভোট প্রচারের কাজে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন বিজেপি নেতা- কর্মীরা। শনিবার থেকে টানা পাঁচ দিনের জেলা সফর শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপির সভাপতি ডক্টর সুকান্ত মজুমদার। জেলায় জেলায় পদযাত্রা এবং সভা করবেন তিনি।
পাঁচ দিনের জেলা সফর তিনি শুরু করেছেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার দাসপুর বিধানসভায় বাইক র্যালি এবং জনসভার মাধ্যমে।পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূল সরকারের সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং এসআইআর নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিজেপি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার ডাকে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভায়’ বক্তব্য রাখেন তিনি।
এরপর তিনি ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া সহ আসানসোলের বারাবনিতে কর্মসূচি সম্পন্ন করে কলকাতায় ফিরবেন। দলের কর্মসূচির সঙ্গে নিজের মন্ত্রকের অন্তর্গত বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করবেন সুকান্ত মজুমদার।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে অমিত শাহ এসে বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের নীল নকশা তৈরি করে দিয়ে গেছেন বঙ্গ বিজেপি নেতাদের জন্য। তারপরেই ২৬ নির্বাচনকে কুরুক্ষেত্র বলে দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচন তৃণমূলে বিসর্জন। নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, কোচবিহার থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী, পদ্মফুল প্রার্থী। পদ্মফুলকে জেতাতে হবে আর অন্য কিছুই দেখলে হবে না।
বিজেপিকে অনেক ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গের পার্টি বলে ধরে নেওয়া হয়। ২০২১ সালের ভোটে উত্তরবঙ্গ থেকে বেশি আসন জিতেছে বিজেপি। সেখানে দক্ষিণবঙ্গের অবস্থা আশানুরূপ নয়। বঙ্গের এই ভাগে তেমন ভোট পাইনি তারা। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, নদীয়া, দুই মেদিনীপুর বীরভূম থেকে ভালো সংখ্যায় ভোট পেতে হবে পদ্ম শিবিরকে, তবেই নবান্নের লড়াইতে এগিয়ে যেতে পারবে বিজেপি। আর সেই লক্ষ্য স্থির রেখেই জেলা সফর শুরু করে দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

