শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ৩১ জুলাই: বলা যেতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের পর আবার একবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বঙ্গ বিজেপি। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডকে হাতিয়ার করে ফের গা ঝাড়া দিয়ে পথে নেমেছে পদ্ম বাহিনী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হবার পর থেকেই লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকে। আর এই আন্দোলন যে দীর্ঘ মেয়াদী হতে চলেছে আজ সাংবাদিক বৈঠক করে তাই জানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি।
দুদিন আগে সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে কলকাতার বুকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশাল মিছিল করে বিজেপি। এর পর দিন শুভেন্দুর নেতৃত্বেও মিছিল হয়। গতকাল আবার চোর ধরো জেলে ভরো কর্মসূচিতে সুকান্ত মজুমদারকে টানা হ্যাঁচড়া করে আটক করে পুলিশ। সেই ঘটানাতেও দেখা যায় বিপুল কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি।
এরপর আজ সাংবাদিক বৈঠক করে সুকান্ত মজুমদার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদী আন্দোলনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করে তিনি বলেন, রবিবার থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রত্যেকটি মিউনিসিপ্যালিটির ওয়ার্ড স্তরে পথসভা করে মানুষকে সচেতন করা হবে বিজেপির তরফে। সুকান্ত বলেন, “এখনো পর্যন্ত ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের যে বক্তব্য আমরা পেয়েছি তাতে উনি বলেছেন ওই টাকা নাকি তার নয় এবং এটা কোথা থেকে এসেছে তার প্রেক্ষিতে বিরাট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিt দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত মানুষদের দেশের মানুষের সামনে আসা উচিত। এর আগে আমি একটি তত্ত্ব দিয়েছিলাম রানী মৌমাছি, নিজে মধু সংগ্রহ করে না। শ্রমিক মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে দেয়। সেই তত্ত্ব এখানে ফিট হয় কিনা সিবিআই ইডির তদন্ত করে দেখা উচিত। পথ সভায় আমরা এই বক্তব্য তুলে ধরব মানুষের কাছে।”
৬ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট এবং ১৬ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট ব্লক স্তরে বিজেপির অবস্থান ধর্না চলবে বলে জানান সুকান্ত। এর মধ্যে “হর ঘর তিরাঙ্গা” কর্মসূচি পালিত হবে। ২৩ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট জেল ভরো ও আইন অমান্য আন্দোলন করবে বিজেপি।
রাজ্য সভাপতি আরো জানান, “আগামীকাল থেকে আমরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করছি। যতদিন না এই দুর্নীতি কাণ্ডে তদন্ত সুনির্দিষ্ট পথে যায় ততদিন আমাদের নির্দিষ্ট সময়ে ধরে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে অবস্থান-বিক্ষোভ করব।”
মনে করা হচ্ছে বিজেপির এই দীর্ঘ মেয়াদি আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন মানুষের কাছে পৌঁছবে তেমনি চাঙ্গা হবে সংগঠনের কর্মীরা। শক্তিশালী হবে দল। দলের নব নির্বাচিত একধিক কমিটি সুনির্দিষ্ট ভাবে সংগঠিত আন্দলনের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারবে। মা মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পথকে প্রশস্ত করবে।
আগামীকাল দিল্লিতে সাংসদরা সংসদ ভবনের সামনে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে ধর্না দেবে, যাতে নিয়োগ দুর্নীতির মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ইডি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়।
আগামীকাল রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাংলার মানুষকে বোকা বানানোর জন্য আরও কিছু নতুন স্টান্টবাজি হতে পারে, যেমন এতদিন স্টান্টবাজি করে এসেছেন–আমি কিছুই জানি না। যে পার্টিতে তার নির্দেশ ছাড়া একটা পাতা পর্যন্ত নড়ে না, তার পারমিশন ছাড়া মন্ত্রীরা বাথরুমে যান না। সেই পার্টিতে তিনি জানবেন না এটা হতে পারে না। স্বাভাবিকভাবে এক চোরকে সরিয়ে দ্বিতীয় চোরকে বসানো হবে।

