আমাদের ভারত, ২০ এপ্রিল: ৩ আদিবাসী মহিলার দণ্ডিকাটা কান্ডে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের তরফে পুলিশের রিপোর্ট জমা পড়েছে জাতীয় মহিলা কমিশনে। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে স্বেচ্ছায় দণ্ডি কেটেছেন ওই তিন মহিলা। আর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই জেলা পুলিশের রিপোর্টকে হাস্যকর বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সংসদ সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্ত আবারও এই ঘটনায় সরেজমিনে তদন্ত করতে জেলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। বিজেপি নেতার অভিযোগ, দণ্ডিকাটা মামলায় মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতে এই রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ।
৭ই এপ্রিল বালুরঘাটের তিন আদিবাসী মহিলাকে দিয়ে দণ্ডি কাটানোর অভিযোগ ওঠে মহিলা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। তবে থানায় যে অভিযোগ দায়ের হয় তাতে নির্দিষ্ট কারো নাম ছিল না। কিন্তু এই ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে জাতীয় এসটি কমিশনে চিঠি দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেই চিঠি পাওয়ার পরেই এসটি কমিশনের তরফে ডিজিকে চিঠি দিয়ে পুরো ঘটনার রিপোর্ট দিতে বলা হয়। তিন দিনের মধ্যে সেই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। এদিকে পুলিশের তরফে রিপোর্টের উত্তরের চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পুলিশ প্রথম থেকেই প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর নাম সামনে আনতে চায়নি। বরং দোষীকে আড়াল করতে অন্য দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও তারা জামিনে ছাড়াও পেয়ে গেছে।
এর মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ জাতীয় মহিলা কমিশনে যে রিপোর্ট পাঠায় তাতেও অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সুকান্তর। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী কোনো অপরাধী সংঘটিত হয়নি। প্রশ্ন ওঠে কোনো অপরাধ না হলে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করল কেন? তৃণমূলের যে নেত্রী ঘটনাকে প্রায়শ্চিত্যের কথা বলেছেন সেই নেত্রীর বিরুদ্ধে কেন কোনো অপরাধ পুলিশ খুঁজে পেল না? পুলিশ আসলে ওই নেত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।” সুকান্তর দাবি, কেন্দ্রীয় এসটি কমিশন বিষয়টি তদন্ত করলে ঘটনা সম্পূর্ণ ভাবে প্রকাশ্যে আসবে।

