শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২০আগস্ট : পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেপ্তারির পর থেকেই বিজেপির তৃণমূলের বিরোধী আন্দোলন এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। রাজ্যের শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। আর সেই কারণেই সুকান্তর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা অথবা দলের কর্মীদের দিয়ে তার সভার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। কিন্তু বিজেপি সভাপতি এই হুমকির পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন মামলা বা হামলা যেটাই করুন সবটা সামলানোর ক্ষমতা তাঁর আছে।
মামলা করুন কিংবা হামলা সুকান্ত মজুমদার সবটাই সামলানোর ক্ষমতা রাখে। হ্যাঁ এই রনংদেহি মেজাজেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়কে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, “সৌগত রায় আইনের স্মরনাপন্ন হতেই পারেন। কিন্তু আমি একটা কথাও মিথ্যা বলিনি। ১০০ শতাংশ সঠিক কথা বলেছি। তৃণমূল পুরো দলটাই চোর।”
সুকান্ত মজুমদার মনে করিয়ে দেন টেলিভিশনের পর্দায় মানুষ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে টাকা নিতে দেখে ছিল। তার কথায়, “টিভিতে তাকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। ওনার এই সব কথা বলা মানায় না।” এরপরই তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মামলা বা হামলা করুন , সামলানোর ক্ষমতা সুকান্ত মজুমদারের আছে।”
আজ কলকাতায় বিজেপি অফিসের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গেছে। এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, এটাকে পুলিশের অপদার্থতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে সামনে আর একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এই ভাবে বিক্ষোভ দেখায় আর পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দেখে।”
সৌগত রায়ের নির্দেশ মেনে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি রাজ্য সভাপতির সভায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় সেক্ষেত্রে কিভাবে সেটা সামাল দেবেন বিজেপি নেতারা। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমরা প্রয়োজনে আইনুগ ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু পুলিশ যদি
পদক্ষেপ না করে তাহলে আমাদের কর্মীদের প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল কংগ্রেসকে চোর ও সামাজিক বিষ বলে তুলোধোনা করার পরেই বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় সুকান্ত মজুমদারের উদ্দেশ্যে হুমকির সুরে বলেন, “সুকান্ত মজুমদারকে এতদিন অপরিণত রাজনীতিবিদ ভাবতাম আমরা। কিন্তু উনি এখন যে ভাষা ব্যবহার করছেন তাতে আমাদের ওর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। উনি দলকে চোর বলছেন। আমাদের দলকে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে দলের ছেলেদের বলবো যেখানেই সুকান্ত মজুমদার যাবেন সেখানেই বিক্ষোভ দেখাতে।”
বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সভা ভুন্ডুল করে দেওয়ার উস্কানি দিচ্ছেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা। সৌগত রায় লাগাতার এই ধরণের উস্কানি মূলক মন্তব্য করেছেন। কিছু দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, তৃণমূলের সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো তৈরি হবে। যদিও তার পাল্টা দিতে ছাড়েননি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেছিলেন, “পায়ের মাপ আমরাও নিতে জানি। পায়ের মাপের সাথে হাতের মাপও নেওয়া হবে। বিজেপির ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না।” এবার দেখার সৌগত সুকান্তর এই দ্বৈরথ কতদূর যায়।

