শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১৮ জুন: সব মাদ্রাসা বন্ধ করে দেব- বাচ্চাকে বাড়িতে কোরান পড়ান, দুই সন্তান নীতি মুসলিমদের অশিক্ষা ও দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দিতে পারে, মুসলিমদের তিনটি মহিলাকে বিয়ে করা উচিত নয়, ইউনিফর্ম সিভিল কোড অত্যন্ত জরুরি। হ্যাঁ এমনই সব বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মত প্রকাশ করে থাকেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। উত্তর পূর্ব ভারতে হিন্দুত্বের অন্যতম মুখ। সেই হিমন্ত এবার বাংলাতে বঙ্গ বিজেপির প্রচারের অন্যতম মুখ হয়ে আসতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির কর্মসূচিতে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। আর তাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কী বিজেপি এবার বাংলাতে হিন্দুত্বের ধারে শান দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠকের বেশ কয়েকটি ছবি দিয়ে লিখেছেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আর তাতেই শুরু হয় জল্পনা তাহলে ত্রিপুরার মতো বাংলাতেও হিমন্তকে এনে কী বার্তা দিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি?
Met Hon'ble CM of Assam Shri @himantabiswa ji at Guwahati today. Had a fruitful and valuable discussion with him on various issues. I thank him for his valuable time. pic.twitter.com/pRemeE6iBy
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) June 17, 2022
সুকান্ত মজুমদার জানান, আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে আসবেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তবে তাঁর হিন্দুত্ববাদী ইমেজের জন্য নয়, বরং তাঁর উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, হিমন্ত বিশ্বশর্মা তো সরাসরি বলেন তাঁর মুসলিম ভোটের প্রয়োজন নেই। তাহলে এই কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতার উপর কেন ভরসা করছে বঙ্গ বিজেপি? সুকান্ত মজুমদার বলেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মা যেখান থেকে ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে ৩৪ শতাংশ মুসলিম ভোটার। আর হিমন্ত বিশ্বশর্মা রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো ভেদাভেদ করেন না। সেই কারণেই তাঁর শাসনকালের অল্প সময়ের মধ্যে অসমের ছবিটা বদলে গেছে। আজ সেখানে ৪৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করেছে অসম সরকার। আর পশ্চিমবঙ্গে মাঠে দাঁড় করিয়ে হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার পর জানা যাচ্ছে সবটাই দুর্নীতি হয়েছে। কর্মহীনতায় ভুগছে এই রাজ্যের যুব সমাজ। সেখানে অসমে শিল্পায়নের নতুন জোয়ার এসেছে। উত্তর পূর্ব ভারতকে এক নয়া দিশা দেখাচ্ছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সুকান্ত মজুমদার বলেন, বঙ্গ বিজেপি, উন্নয়নের জোয়ার আনা হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে রাজ্যে আনতে চাইছে। যিনি নয়া পথের দিশা দেখাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশের ধারণা বঙ্গ বিজেপি আগের বিধানসভা নির্বাচনে স্বপ্ন পূরণ করতে না পারার অন্যতম কারণ ছিল নরম হিন্দুত্ব না কঠোর হিন্দুত্ব, কোন পথে পশ্চিমবঙ্গে এগোবে পদ্মশিবির, সেটা ঠিক করে উঠতে পারেনি। সেই কারণেই দ্বিধাগ্রস্ত থেকেছে নেতা থেকে কর্মী সকলেই। আর তার প্রভাব পড়েছে নির্বাচনের ফলাফলে। কিন্তু এবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে রাজ্যে আনতে চাওয়ায় ঠিক কোন পথ বেছে নিল বঙ্গ বিজেপি? সামনাসামনি বলছেন হিমন্তের উন্নয়নে জোয়ার তোলার ক্ষমতাকেই তুলে ধরতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু তিনি যে কঠোর হিন্দুত্ববাদী সেটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। তাহলে কি এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা এটা? একদিকে যেমন, হিন্দি বলয়ের নেতাদের ছেড়ে উত্তর পূর্ব ভারতের নেতাকে আনা, যিনি ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে বহুল জনপ্রিয়। অন্যদিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতার হাত ধরেই এসেছে উন্নয়ন, পূরণ হচ্ছে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন। এই বার্তাই কি দিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি?

