আত্মহত্যা নয় খুন, উপরতলার নির্দেশে পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সব করছে, আইসি ও প্রধানের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২২ এপ্রিল: উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ইচ্ছাকৃত গাফিলতি বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার দাবি উপরতলার নির্দেশ মেনে পুলিশ সবরকম ভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

শনিবার ঘটনাস্থলে যান বিজেপির এক প্রতিনিধি দল। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী, উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু, ইংরেজবাজারের বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী সহ বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব। গোটা ঘটনায় পুলিশের চুড়ান্ত ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপির প্রতিনিধি দলে। পাশাপাশি পুলিশ ইচ্ছাকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তাদের। শনিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের জন্য হাইকোর্টে যাওয়ার কথা বলেন। আইনি পদক্ষেপ করতে এই দরিদ্র পরিবারকে সমস্ত রকম আর্থিক সহায়তা দলের তরফে করার কথাও তিনি ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, পুলিশ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই পুরো ঘটনাকে লঘু করার চেষ্টা করছে। তাই খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যার রূপ দিতে চাইছে পুলিশ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পুলিশ গোটা ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করছে। সবটাই তারা করছেন উপরতলার নির্দেশে।” তিনি বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি এসইউভি গাড়ি পাঠিয়ে তৃণমূলের নেতাদের তুলে নিয়ে গিয়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে গোটা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উপর থেকে নির্দেশ আছে।”

পুলিশের দেওয়া আত্মহত্যার তত্ত্ব প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ময়নাতদন্তের আগেই এসপি বলে দিচ্ছেন মেয়েটি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। জঙ্গলে বিষের বোতল পাওয়া গেছে, কিন্তু বিষের শিশি দাঁড়িয়ে আছে পড়ে যায়নি। দেখলেই বোঝা যাচ্ছে কেউ আলতো করে সেটা রেখে দিয়েছে। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে চার জোড়া জুতো পাওয়া গিয়েছে এই জুতো কাদের সেই বিষয়ে পুলিশ কিছুই বলেনি।” সুকান্ত বাবুর প্রশ্ন, “মেয়েটা কি তাহলে আত্মহত্যা করতে যাওয়ার সময় জুতো নিয়ে গিয়েছিল সাথে?” সুকান্ত মজুমদার বলেন, ওই মেয়েটিকে বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কেউ যদি আত্মহত্যা করতে চায় নিশ্চয়ই জামা কাপড় খুলে যাবে না। তার কথায় ঘটনাগুলি বার বার প্রমাণ করেছে এটি আত্মহত্যা নয় খুন।

এরপরই তিনি গাজোল ও চোপড়াতেও এই এক ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, বার বার এক ভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মেয়েরা আর বার বার আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করেছে পুলিশ।

তার আরও দাবি, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়াতে কালিয়াগঞ্জের আইসি ও গ্রাম প্রধানের বিশেষ ভূমিকা আছে। অবিলম্বে আইসিও গ্রামের প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করেছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, ওই নাবালিকার দেহ যেখানে পাওয়া গেছে সেই জায়গাটিকে ঘিরে পর্যন্ত রাখা রাখা হয়নি, যে কোনো অপরাধ হলে এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে। ফলে সহজেই সেখান থেকে প্রমাণ লোপাট হয়ে যাবে। বিজেপি নেতা জানান, নির্যাতিতার গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান নীলিমা রায় হলেও পঞ্চায়েত চালান তার স্বামী। ঘটনার পর পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী জ্ঞানেন্দ্র রায় নির্যাতিতার পরিবারকে মিটমাট করে নেওয়ার জন্য ডেকেছিল। সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, কিছু না হলে মিটমাট কিসের জন্য?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *