১৯-দফা দাবিতে ২২ মার্চ কলকাতা ও শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ মিছিল এসইউসিআই’য়ের

আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৪ মার্চ: ‘গরিব-নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের রুজি রোজগার ও বাঁচার দাবিতে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বার গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে আন্দোলনে নামছে এসইউসিআই (সি)। দলের রাজ্য কমিটির উদ্যোগে ২২ মার্চ কলকাতা ও শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। 
 
এসইউসিআই (সি)-র এক বিবৃতিতে সোমবার দাবি করা হয়েছে, “জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে দলের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় নেমে লাগাতার আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ মার্চ কলকাতায় ২৫ হাজার এবং শিলিগুড়িতে ৫ হাজার মানুষের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নিম্নলিখিত জনবিরোধী নীতি, বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি, লাগামহীন বেসরকারিকরণ ও শ্রমিক-কৃষক বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কলকাতায় হেদুয়া পার্ক থেকে দুপুর ১টায় এবং শিলিগুড়ি থেকে দুপুর ১২টায় এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও উত্তরকন্যায় দাবি সনদ নিয়ে প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দেবেন। এই দুই সুবিশাল মিছিল প্রমাণ করবে জনস্বার্থের প্রতি সরকারি অবহেলা জনসাধারণ নীরবে মেনে নিচ্ছে না।

সারা রাজ্যজুড়ে জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে প্রচার-পথসভা-লিফলেট বিতরণ যেমন চলছে তেমনি ২৮-২৯ মার্চ ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় ফেডারেশন সমূহের ডাকে ‘সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘট’ সফল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দাবিসমূহ—
১। রাজ্য সরকারকে কালোবাজারি মজুতদারি ও অত্যাবশ্যক পণ্যের যা খুশি দাম নেবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে।
২। সব শূন্য পদ এক বছরের মধ্যে পূরণ করতে হবে। সমস্ত কর্মক্ষম যুবকদের চাকরি দিতে হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চাকুরি নিয়ে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। 
৩। ‘দুয়ারে মদ’ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। মদ, গাঁজা, চরস, ড্রাগস ও অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্য নিয়ে ব্যবসা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। মদের প্রসার ঘটিয়ে ছাত্র ও যুবকদের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেবার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।
৪। হাসপাতালে ছাঁটাই করা চলবে না। হাসপাতাল থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ফেরানো চলবে না। স্বাস্থ্য সাথীর ভাঁওতাবাজি ও বীমাকরণ চলবে না। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সকলের সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৫। কোনো অছিলায় রাজ্যে ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ চালু করা চলবে না। স্কুল শিক্ষাকে ‘পিপিপি মডেল’-এর আওতায় এনে বেসরকারীকরণ করা চলবে না। শিক্ষার মানোন্নয়নে পাশ-ফেল প্রথা পূর্ণ রূপে চালু করতে হবে। শিক্ষার ধর্মীয়করণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ ও ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো চলবে না। শিক্ষায় ফি বৃদ্ধি করা চলবে না।
৬। করোনাকাল ও তার পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কল কারখানা খুলতে হবে। বন্ধ চটকল ও চা বাগান খুলে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে হবে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মজুরি দিতে হবে। ধনকুবেরদের ট্যা’ ছাড় না দিয়ে অতিরিক্ত ট্যা’ বসিয়ে বন্ধ শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে।
৭। স্থায়ী কর্মসংস্থান না করে, মানুষকে দাদন দেবার সংস্কৃতিতে আবদ্ধ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে এবং শিক্ষক পদে নিয়োগ সহ চাকুরীর নির্বাচন ও নিয়োগে চূড়ান্ত দুর্নীতি ও দলবাজি বন্ধ করতে হবে। ৮। সরকারি অর্থের ব্যাপক আত্মসাৎ ও অপচয় বন্ধ করে গরিব মানুষের প্রকৃত সাহায্য হয় এমন প্রকল্প রচনা করতে হবে। অযথা মেলা-খেলা-ক্লাবকে সরকারি অর্থদান বন্ধ করে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকের স্রোত বন্ধ করতে বছরভর কাজ সৃষ্টি করতে হবে।
৯। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে সুন্দরবন সহ সমুদ্রতীরবর্তী জনবসতিকে রক্ষা করার জন্য স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
১০। রাজ্য থেকে নারী পাচার, কিশোরী ও শিশু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নারী নির্যাতন ও নারী ধর্ষণ বন্ধে সরকার ও প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে।দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

১১। দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করে পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিরুদ্ধ মতকে দমন করা, বিরোধীদের মানসিক ও দৈহিক নির্যাতন করা এমনকি হত্যা করা, গণতন্ত্র নিধন করা সহ স্বৈরতন্ত্রিক কায়দায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সারা দেশে যে অত্যাচার চালাচ্ছে, রাজ্য সরকারও সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচন সহ বহুক্ষেত্রে সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছে। নানা অজুহাতে বিরোধীদের মিছিল-মিটিং করায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ করি ও গণ আন্দোলনের রাস্তায় তা প্রতিরোধ করার জন্য সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাছে আহ্বান জানাই। 
১২। সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। ‘বিদ্যুৎ বিল ২০২১’ বাতিল করতে হবে। সার-বীজ-কীটনাশকের দাম কমাতে হবে। ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ও কম সুদে সহজে কৃষি ঋণ দিতে হবে।
১৩। আশা-আইসিডিএস- পৌর স্বাস্থ্য কর্মী-মিডডে মিল-নির্মাণ কর্মী-বিড়ি শ্রমিক-মোটর ভ্যান চালক সহ সর্বস্তরের অসংগঠিত শ্রমিকদের দাবি অবিলম্বে মানতে হবে।
১৪। দেউচা-পাঁচামিতে আদিবাসীদের জোর করে উচ্ছেদ করা চলবে না।
১৫। পরিবহনের যেমন খুশি ভাড়া বাড়ানো চলবে না।
১৬। আনিস হত্যার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। 
১৭। শ্রমিক বিরোধী শ্রমকোড বাতিল করতে হবে। সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির বেসরকারীকরণ করা চলবে না। ধনকুবেরদের অধিক মুনাফার স্বার্থে সরকারি সংস্থা জলের দরে হস্তান্তর করা চলবে না। সমস্ত নন পারফর্মিং আ্যাসেট উদ্ধার করতে হবে। 
১৮। পেট্রোল-ডিজেল-
রান্নার গ্যাসের বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধি চলবে না, অবিলম্বে তাদের দাম কমাতে হবে।
১৯। প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের সুদের হার কমানো চলবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *