আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৫ এপ্রিল: জলপাইগুড়ি শহরে দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক তথা মৃতের দিদি শিখা চট্টোপাধ্যায়ের। প্রভাবশালী নেতা যুক্ত থাকায় পুলিশি তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। তাকে ওই পদে রেখে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। এই কারণে তাকে তাঁর পদ থেকে সরাতে এবং সিবিআই তদন্তের জন্য এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন মৃত সুবোধ ভট্টাচার্যের দিদি তথা বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়।
গত শনিবার জলপাইগুড়ি শহরের পান্ডাপাড়ার বাসিন্দা আইনজীবী তথা সমাজকর্মী সুবোধ ভট্টাচার্য এবং তার স্ত্রী প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অপর্না ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। ঘটনার পর একটি সুইসাইড নোট হাতে আসে পুলিশের। সেখান আত্মহত্যার জন্য দায়ী জেলা যুব সভাপতি তথা পুরসভার ভাইরাস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও আরো তিন জনের নাম উঠে আসে। এর পরেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে জলপাইগুড়ির কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি। অভিযোগ দায়ের করার পরেও এখন কেন অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি সেই বিষয় জানার জন্য বুধবার থানার দ্বারস্থ হলেন শিখা চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবং যুব তৃণমূল সভাপতির পদে বসে আছে। আবার মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে নানা কার্যকলাপ করছেন সৈকত। সুতরাং প্রভাবশালী ব্যক্তি যতক্ষণ ওই পদে বসে থাকবেন ততক্ষণ এই তদন্তের কাজ হওয়া সম্ভব নয়। আবার পুলিশের তদন্তের ওপর আমাদের কোনো ভরসা নেই। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী তিনি সকলের। তাই নায্য বিচার চেয়ে চিঠি পাঠালাম।”
বিজেপির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরকে আড়াল করার চেস্টা করছেন। তাই এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত অথবা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্য পুলিশ পুরনো তারিখে অভিযোগ নিয়েছে পুলিশ। গত ডিসেম্বর মাসে যারা অভিযোগ করেছিলো সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার দাবি করা হবে।
ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জি জানান, আমার বিরুদ্ধে যারা বলছেন আমি জমি মাফিয়া আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। মনোময় সরকারের কাছ থেকে শিখা চ্যাটার্জি ২১ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। ৪/৪/২৩ তারিখে আইনজীবীর মাধ্যমে শিখা চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন মনোময় সরকার। আমি চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সৈকত চ্যাটার্জি অভিযোগ করেন, আত্মহত্যার পেছনে শিখা চ্যাটার্জির হাত রয়েছে।”

