জলমগ্ন কেশপুর ও ঘাটাল, বিচ্ছিন্ন বহু এলাকা

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১ অক্টোবর: কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কেশপুরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামীন রাজ্য সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার জল বইছে। প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ শুধু কেশপুরই নয়, ঘাটালেরও বহু এলাকা জলের তলায় ডুবে রয়েছে। প্রচুর কাঁচা বাড়ি ভেঙ্গে মানুষ আশ্রয়হীন হয়েছে। বারোটা বেজেছে চাষবাসের। কেশপুরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তার উপর দিয়ে স্রোতে জল বইছে। কেশপুর থেকে জগন্নাথপুর যাওয়ার পাকা রাস্তার প্রায় দুশো ফুট বন্যার জলের তোড়ে ভেসে গেছে। ফলে  টাপুরিয়া, সতিঘাট, লোয়াদা, সাহসপুর সহ প্রায় কুড়িটি গ্রাম একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দারা হাসপাতাল, বাজার ঘাট, সহ জরুরি কোনও কাজে কেশপুরে আসতে পারছে না।

এলাকাবার বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে এই পাকা রাস্তা সারাই না করলে এই সব গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সহ বিভিন্ন জরুরি পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। চিকিৎসা না পেয়ে অনেক মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতির সমস্যা হবে। ঘাটালের মনসুকা চড়কতলা এলাকায় ঝুমি নদীর জলের চাপে একটি দোতলা বাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে ঝুমি নদীতে জলস্তর বাড়তে থাকে। আজ শুক্রবার সকালে চড়কতলা এলাকার বসতবাড়ি এবং দোকান বাজারে জল ঢুকে পড়ে। একটি দোতলা বাড়িতে জল ঢোকার পর বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। তবে আগে থেকে বাড়িটি খালি করে দেওয়ায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ঘাটালেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ঘাটাল, চন্দ্রকোনা এবং দাসপুর এই তিনটি ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। চন্দ্রকোনা এবং ঘাটাল ব্লকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার রাতে চন্দ্রকোনা ও বসনছোড়া এলাকায় একের পর এক কাঁচাবাড়ি বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে।  কয়েকশো বাড়ির ভেতর এক কোমর জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। মূলত চন্দ্রকোনায় শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়েছে এবং এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঘাটাল শহরের কয়েকটি ওয়ার্ড আবারও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *