আইনের ভয়ে মুকুল রায়কে অসুস্থ সাজিয়ে রেখেছে তৃণমূল, ছাড় নেই কারুর, দলত্যাগী বিধায়কদের তোপ শুভেন্দুর

আমাদের ভারত, ১ সেপ্টেম্বর: দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকরের ভয়েই মুকুল রায়কে অসুস্থ সাজিয়ে রাখতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনটাই দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুকুল রায়ের পর সম্প্রতি বিষ্ণুপুর ও বাগদার বিধায়ক তন্ময় ঘোষ এবং বিশ্বজিত দাস তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু বলেন, যারা বিধায়ক হবার পর দলবদল করছেন তারা কোনো ভাবে ছাড় পাবেন না। আইনত ব্যবস্থা হবে তাদের বিরুদ্ধে। আরেকটা নির্বাচন পর্যন্ত মামলা চলতেই থাকবে এটা হবে না আর। এরপরই শুভেন্দু বলেন, মুকুল রায়কে অসুস্থ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে এত বিতর্ক শুরু হয়েছে। অথচ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হচ্ছেন না মুকুলবাবু। কমিটি কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কমিটির সদস্য তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আগস্ট মাসের প্রথম দিকে মুকুল রায় সংবাদমাধ্যমের সামনে হঠাৎই মন্তব্য করে বসেন, কৃষ্ণনগরে উপনির্বাচন হলে তৃণমূল হেরে যাবে আর স্বমহিমায় বিজেপির ফিরে আসবে। যদিও এরপরই মুকুল রায় দাবি করেছেন এটা বলা ঠিক হয়নি তার। তৃণমূলের অনেকেই সেই সময় বলে উঠেছেন, অসুস্থতার কারণে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে ফেলেছেন মুকুল রায়। এমনকি মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুও পরবর্তীতে বাবার অসুস্থতার কথা জানান। এরপরে আবার বিধানসভায় এসে মুকুল দাবি করেছিলেন তিনি বিজেপির বিধায়ক। এই বক্তব্য নিয়েও অসুস্থতার কথা তোলা হয়। কিন্তু বুধবার শুভেন্দু দাবি করেছেন সম্পূর্ণ বিষয়টি সাজানো।

মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির একটি বৈঠকে কিভাবে দলত্যাগ বিরোধী আইন বিধানসভায় কার্যকর করা যায় তা নিয়ে বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে কিভাবে দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটা দেখবেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “দলত্যাগ বিরোধী আইন বাংলায় গত ১০ বছরে কার্যকর হয়নি। মুকুল রায়ের ঘটনায় আমরা যে পদক্ষেপ করছি তাতে আমরা সফল হবই। আইনি লড়াইয়ে কোন পথে আমরা এগোবো তার দায়িত্ব দল আমায় দিয়েছে। পদত্যাগ না করে দল ত্যাগ করা চলবে না। আমি আইনি বিষয়টা দেখব। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আর কি কি করতে হয় তা নিয়ে আমি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব।” তিনি জানান বিজেপি তন্ময় ও বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এখনো পর্যন্ত তিনজন বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে চলে গেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ভাঙন আটকাতে তড়িঘড়ি বুধবারই দক্ষিণবঙ্গের সব বিধায়ককে দলের দপ্তরের ডাকা হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একইভাবে উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের নিয়ে শিলিগুড়িতে বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি সাধারণ সম্পাদক অমিত চক্রবর্তী। দীলিপবাবু জানান মূলত নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বসা হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন অনেকে চাপের মুখে পড়ে আত্মসমর্পণ করে ফেলছেন। মুকুল রায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তার মতো নেতাকে প্রথমবার নির্বাচনে জেতার সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। কিন্তু তারপর তিনি যা করেছেন তাতে রাজনীতিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ভরসা করে ভুল করেছিলাম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *