আমাদের ভারত, ২৯ মার্চ:আর মাত্র দু’দিন পরেই নন্দীগ্রামে ভোট। তার আগে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও তীব্র করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রোড-শোয়ের শেষে তিনি নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তারা যেনো নির্ভয়ে ভোট দিতে যান। তিনি বলেন, এবার বুথে দিদির পুলিশ নয়, দাদার পুলিশ থাকবে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ফলে ভয় দেখিয়ে ভোট করানো যাবে না বলে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন।
সোমবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, গত ১০ বছর বাংলাকে রসাতলে পাঠিয়েছেন। তষণের রাজনীতি শুরু করেছেন। বেকারত্ব তৈরি করেছেন। শিল্পের দরজা বন্ধ করেছেন। শুভেন্দু বলেন, মমতা এখন সেজেগুজে বসে আছেন, ব্যান্ডেজ বেঁধে। বেরোনোর সময় ব্যান্ডেজ লাগাতে হয়। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামবাসির উদ্দেশ্যে, বার্তা দিয়ে বলেন, ভয় পাবেন না , সব বুথে এবার দাদার পুলিশ থাকবে, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। দিদির পুলিশ থাকবে না। উৎসবের আনন্দে ভোট করবেন।
এবারে নন্দীগ্রামে প্রেস্টিজ ফাইট হতে চলেছে। মমতা ও শুভেন্দুর বাকযুদ্ধে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। রবিবার সাগরের সভাতেও মমতাকে নিশানা করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন বেগমকে হারাচ্ছি। যতই নাটক করুন না কেন কোনও কাজে লাগবে না। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারকে তাড়াতে হবে। আমিও তৃণমূল করতাম। ওইখানে ল্যাম্পপোস্ট হয়ে থাকতে হবে। তোলাবাজ ভাইপোকে নেতা মানতে হবে। আমরা বললাম, ভাইপোকে নেতা মানতে পারবো না। মোদীজি উন্নয়ন করছেন আর মাননীয়া কি করছেন? দু’কোটি বেকার তৈরি করলেন। ৭ বছর এসএসসি পরীক্ষা করাননি। চাকরিকে ভোকাট্টা করে দিয়েছেন। আমফানের চোরগুলোকে ভোট দেবেন না। বেগমকে হারাবই। ”
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিশির এবং শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে বলেন, নন্দীগ্রাম-কাণ্ডে সময় বাপ-ব্যাটাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন বিজেপিতে গিয়ে মিথ্যে কথা বলছেন। তিনি বলেন, “সেদিন ওরা সিপিএমকে ডেকে এনেছিল। সিপিএমের ক্যাডাররা পুলিশের ড্রেস পরে গুলি চালিয়েছিল। আজও তাই করছে, পুলিশের ড্রেস কিনে ক্যাডারদের সাজিয়ে গ্রামে গ্রামে ভয় দেখাচ্ছে, বলছে বিজেপিকে ভোট দাও।” ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, নন্দীগ্রাম নিয়ে মামলা হয়েছিল সেই মামলায় এখন সুপ্রিমকোর্টে বিচারাধীন। কেবল অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।

