পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩ জানুয়ারি: সুকান্তর শহর থেকেই পঞ্চায়েত ভোটের ডাক শুভেন্দুর। ঝাণ্ডা, ডান্ডা ও ঝাঁটা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের নমিনেশন দেবার নিদান রাজ্য সভাপতির। মঙ্গলবার বালুরঘাটে জেলাশাসক অফিসের সামনে প্রকাশ্য জনসভা করতে এসে সুকান্তর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজ্যকে আক্রমণ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
এদিন দুপুরে বালুরঘাটে শাসক দলের লাগামহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে বিজেপির আয়োজিত র্যালিতে সুকান্তর সাথে পা মেলান শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই মঞ্চে উঠে একযোগে রাজ্যে আবাস যোজনা থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন সুকান্ত ও শুভেন্দু। এদিন ওই বিক্ষোভ মঞ্চে রাজ্যের প্রথম সারির দুই নেতা ছাড়াও হাজির ছিলেন উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলা নেতৃত্বরা। আর যাদের বক্তব্য শুনতে আসা হাজার হাজার কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতিতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা বালুরঘাট শহর।

এদিন সভার শুরুতে জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর বক্তব্যের পরেই ঝাঁঝালো বক্তব্য রাখতে মঞ্চে ওঠেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম থেকেই শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতাকে। তাঁর কথায় দিদির দূতের নামে দিদির ভূত আসছে। তবে পুলিশ না নিয়ে গ্রামে ঢুকলে সে সব ভূতদের ফেরা মুশকিল আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিন প্রথম থেকেই রাজ্যের আবাস যোজনা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় প্রধানমন্ত্রী চান সকলের বাড়ি পাকা হোক। আর এটা সকলের হকের ঘর। প্রধান ও বিডিওর কাছ থেকে প্রত্যেককে নিজেদের ঘর বুঝে নেবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসাথে তিনি দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, বড় চোরদের ধরবার দায়িত্ব আমি ও সুকান্ত নিয়েছি। কিন্তু ছোট চোরদের আপনাদের ধরতে হবে, নিজের নিজের এলাকায়।
এরপরেই মঞ্চে উঠে শাসক দলের দুর্নীতি ও বিগত পঞ্চায়েত ভোট লুট নিয়ে সরব হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। সুকান্ত মজুমদার বলেন, ২০১৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন সকলেই দেখেছে এই জেলায়। তৎকালীন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ ও এক পুলিশ অফিসারের কুকীর্তি। শুধু তাই নয়, নমিনেশন দিতে গিয়েও তাদের কর্মীদের মার খেতে হয়েছে। তাই সেসব থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি এলাকায় নোমিনেশন দিতে বিজেপি কর্মীদের ঝান্ডা, ডান্ডা ও ঝাঁটা নিয়ে যাবার নিদান দিয়েছেন সুকান্ত। এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি আরো জানিয়েছেন, শিক্ষকতার জীবনে বহু বদমাশ ছাত্রদের টাইট করেছি। সেরকম মাষ্টার মশাই এখন আছি, বদমাশ ছাত্রদের টাইট করবো।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছাপ্পা ভোট সহ ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলেন বিরোধীরা। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এমন মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

