পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৭ জানুয়ারি: এবার শহিদ দিবসে নেতাইয়ে গেলেন না শুভেন্দু অধিকারী। তবে শুভেন্দু অধিকারী না গেলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে শহিদ দিবস পালনে বেশ তৎপরতা দেখা যায়। এদিন শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা, বনদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত, বিনপুরের বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা সহ ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সমস্ত বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তারা অনুষ্ঠান থেকে গ্রামবাসীদের হাতে শীতবস্ত্র ও অন্যান্য পোশাক পরিচ্ছদ তুলে দেন।
তবে তৃণমূলের এই শহিদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ গ্রামবাসীই যোগ দেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত পরিবারগুলি উপস্থিত থাকলেও আহত গ্রামবাসীদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অনেকেই আসেননি।
শহিদ পরিবারগুলির বক্তব্য, প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখ এলে সবাই আসে। আট তারিখ থেকে গ্রামবাসীদের আর কেউ মনে রাখে না। এবছরই প্রথম শুভেন্দুহীন নেতাই দিবস পালন হওয়ায় জনতা আাদক সহ অন্যান্য শহিদ পরিবার গুলির বক্তব্য, শুভেন্দু এলে ভালো হত। তিনি দল যাই করুন তাকে শ্রদ্ধা করি।
নেতাইয়ের শহিদ পরিবার গুলির সকলে এখনো চাকরি পায়নি। গ্রামে আরো উন্নয়ন বাকি রয়ে গেছে। এদিন বেলা ১১ টা নাগাদ মন্ত্রী ও নেতারা যখন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান শুরু করেন তখন শহিদ বেদী থেকে গ্রামবাসীরা অনেকেই বাড়ি ফিরে যাওয়ায় অনেকটা ফাঁকা মাঠেই বক্তব্য রাখেন তারা। শুধু নেতা, পুলিশ, সংবাদ মাধ্যম আর কিছু বাইরের লোক ছাড়া তেমন কেউ ছিলেন না। অনুষ্ঠানে লোক কেন সেভাবে উপস্থিত রইলেন না, এই প্রশ্ন করতেই মানস বাবু এটা সংবাদ মাধ্যমের বক্তব্য বলে এড়িয়ে যান।
গত বছর শুভেন্দু অধিকারীকে পুলিশ প্রশাসন যেভাবে নেতাই গ্রামে যেতে বাধা দিয়েছিল সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে কিছুটা অভিমানেই হয়তো তিনি এবছর নেতাইয়ে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে যাননি বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

