অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১ আগস্ট: একেই অতিবৃষ্টি। তারপর গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মত ছাড়া হচ্ছে ড্যামের জল। প্রবল বর্ষণের জেরে ঝাড়খণ্ডের গালুডি ও চান্ডিল জলাধার থেকে কাল থেকে এখনও পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৮৮হাজার, ১লক্ষ ৮৮ হাজার এবং এখন ২ লক্ষ ৮৮ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই মুহূর্তে গোপীবল্লভপুরের সুবর্ণরেখার উপর দিয়ে ১লক্ষ ৮৮ হাজার কিউসেক জল পাস করছে। তা ২ লক্ষ ৮৮ হাজারে পৌছালে তা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে। এর জেরে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর, সাকরাইল, নয়াগ্রামের নদী পার্শ্ববর্তী অংশ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর, ভামাল, করবনিয়া, মালিঞ্চা, চোরচিতা, মহাপাল, সাঁকরাইল, নয়াগ্রামের বেশ কিছু এলাকা এই সুবর্ণরেখা নদীর পাড়ে, আর সেখানে কমবেশি বহু মানুষের বসবাস। নদী তীরে বসবাসকারী এই মানুষগুলি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সুবর্ণরেখা নদীতে সারাবছর কমবেশি জল থাকলেও বছরের এই নির্দিষ্ট কয়টি দিনে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষগুলিকে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। বন্যা হলে অনেকের চাষের জমি নষ্ট হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার প্রভাব পড়ে। অনেক ঘরবাড়ি যেমন ভেঙ্গে যায় বৃষ্টির জলে তেমনি এই হরকাবানের ফলে অনেক ঘরবাড়ি ভেসে যায় তারই এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে রাখে এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষগুলিকে। এই সময় চাষের জমিতে ধান রোপনের কাজ প্রায় শেষের মুখে, ফলে এই সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বে প্রত্যন্ত এলাকার চাষিরা, এমনটাই দাবি এলাকার সাধারণ মানুষের।

