আমাদের ভারত, ১৮ জুলাই: চোখে ডাক্তার হবার স্বপ্ন। তাই নিট পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা দিতে গিয়ে তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা নিয়ে ঝড় উঠেছে। অভিযোগ পরীক্ষার হলে ঢুকতে গেলে তরুণীকে অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয়েছে।
নিটের পরীক্ষা ছিল রবিবার। কেরালার কল্লাম জেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিট পরে তরুণীর। অভিযোগ, পরীক্ষার হলে ঢোকার মুখে নিরাপত্তার কারণে একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছিল। সমস্ত পরীক্ষার্থীরাই তার মুখোমুখি হন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় এক তরুণীর সময়। তিনি যে অন্তর্বাস পরে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন তার ধাতব হুক থাকার কারণে তাকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত পরীক্ষার জন্য যে মেটাল ডিটেক্টর মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল, ওই ধাতব হুকের কারণে তাতে শব্দ হয়। আর তখনই তরুণীকে অন্তর্বাস খুলে ফেলতে বলা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর ওই তরুণীর বাবা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। আর তাতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ একজন মহিলা নিরাপত্তারক্ষী সেই সময় হলে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ওই তরুণীকে বলেন অন্তর্বাসের এই হুক নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকা যাবে না। অন্তর্বাস না খুললে তিনি পরীক্ষাই দিতে পারবেন না। এমনকি হলে দাঁড়িয়ে এমন প্রশ্ন পরীক্ষার্থীকে শুনতে হয়েছে যে, “তোমার কাছে তোমার ভবিষ্যৎ না অন্তর্বাস কোনটা বড়?”।
অপমানে লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়েছিল ওই তরুণী। বাধ্য হয়ে অন্তর্বাস খুলে মায়ের হাতে তুলে দেয় সে। তারপর পরীক্ষা দিতে হলে ঢোকে। যে প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তারা কোনো রকম দায় নিতে চায়নি। কল্লাম পুলিশ জানিয়েছে, একজন নয় ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে একাধিক পরীক্ষার্থীকে অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। সেই পরিত্যক্ত অন্তর্বাস রেখে দেওয়া হয়েছে একটি স্টোর রুমের মধ্যে।
নিট পরীক্ষার এই ঘটনাকে ঘিরে তরুণীর মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। তার প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার খাতাতে। বহু ছাত্রী পরীক্ষাকেন্দ্রে কান্নাকাটি করেছে। অনেকেই হুক কেটে ফেলে কোনো রকমে গিঁট বেঁধে অন্তর্বাস পরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। এমনটাও শোনা গেছে যে কোনো কোনো পরীক্ষার্থীকে জিন্স খুলতে বলা হয়েছিল, কারণ জিন্সের বোতাম বা চেনও ধাতুর তৈরি।

