উচ্চ মাধ্যমিকে নম্বর বৃদ্ধির দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ রায়গঞ্জের বেথানী মিশন স্কুলের পড়ুয়াদের

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২ আগস্ট: উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টে নম্বর কম এসেছে, এমনই অভিযোগ তুলে নম্বর বৃদ্ধির দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সিবিএসই বোর্ডের অধীন রায়গঞ্জের বেথানী মিশন স্কুলের পড়ুয়াদের। রায়গঞ্জের কসবা তুলসিতলা সংলগ্ন এলাকায় ওই স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ৩৪ নং জাতীয় সড়ক অবরোধে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ঘন্টা দেড়েক অবরোধ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে সচল হয় জাতীয় সড়ক।

সোমবার ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকরা স্কুলে এসে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নম্বর কম আসার কারণ জানতে চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তেমন সদুত্তর না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের নোটিশ বোর্ডে যে নম্বর টাঙানো হয়েছে সেই নম্বর যদি স্কুলের পক্ষ থেকে বোর্ডে পাঠানো হয় তবে পরীক্ষার্থীদের এত কম নম্বর এল কী করে? এর পাশাপাশি তাদের দাবি, এবার সিবিএসসি’র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা হয়নি তবু বাকি স্কুলগুলোর নম্বর তুলনামূলকভাবে বেশি এলেও একমাত্র তাদের স্কুলের নম্বরই খারাপ এসেছে।

এই বিষয়ে স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অনন্যা সরকারের দাবি, তাদের প্রাপ্য যে নম্বর পাওয়ার কথা তার থেকেও স্কুল কমিয়ে নম্বর দিয়েছে এমনকি এই বিষয় নিয়ে স্কুলের কাছে সেই নম্বরের তালিকা যা স্কুল থেকে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে তা দেখতে চাওয়া হলে তা স্কুল দেখাতে পারেনি। তাই তাদের এই অবরোধ এবং যতক্ষণ না এই সমস্যার সমাধান হবে ততক্ষণ এই অবরোধ চলবে বলে জানায় আন্দোলনকারীরা।

পাশাপাশি স্কুলের পক্ষ থেকে স্বরোজ কুমার সরকার জানান, “উচ্চ মাধ্যমিকে নম্বর কম আসায় ছাত্র-ছাত্রীরা অসন্তুষ্ট তবে আমরা এই বিষয় নিয়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বলেছি। আলোচনা করেছি কিন্তু তারপর তাঁরা কোথায় আন্দোলন করছে তা আমাদের জানা নেই। বোর্ডে যে পদ্ধতিতে নম্বর পাঠানোর কথা আমরা সেভাবেই নম্বর পাঠিয়ে দিয়েছি তবে বোর্ডের তরফ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের যে নম্বর দেওয়া হয়েছে তা সবটা সঠিক নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে তাদের যে প্রাপ্য নম্বর পাওয়া কথা তাঁরা সেটা পায়নি।”

এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। দীর্ঘ এক ঘন্টার উপর এই অবরোধ চলার পর পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়। পরবর্তীতে পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেন স্কুল কর্তৃপক্ষ, পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *