আমাদের ভারত, মালদা, ৭ ফেব্রুয়ারি: হাই মাদ্রাসার হেডমাস্টারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে স্কুলের গেটের সামনে বই-খাতা- কলম ফেলে বিক্ষোভ দেখাল ছাত্র ছাত্রীরা। এমনকি পাড়ায় শিক্ষালয়ে প্রথম দিনে ক্লাস হয়নি, হয়নি মিড ডে মিল বলে অভিযোগ তুললেন এলাকার ছাত্র ছাত্রী এবং অভিভাবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক এলাকার তালবাংরুয়া হাই মাদ্রাসার। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা জুড়ে।
ওই হাই মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ, তালবাংরুয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত আছেন। অথচ তার বেতন চালু রয়েছে। কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী থেকে শুরু করে স্কুলের একাধিক প্রকল্প ছাত্র ছাত্রীদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির টাকাও তিনি অনৈতিকভাবে নিজের কাছে রেখেছেন বলে অভিযোগ। এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাবের টাকাও তিনি বেআইনি ভাবে লেনদেন করেছেন। এখনো পর্যন্ত অনেক ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ের ট্যাব পর্যন্ত পায়নি। পাশাপাশি এও অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিবাহিত ছাত্রীদের নামে কন্যাশ্রী এবং স্কুল বহির্ভূত ছাত্র-ছাত্রীদের নামে ট্যাবের টাকাও ঢুকিয়েছেন। বিনিময়ে কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকার অভিভাবকরা হেড মাস্টারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পর্যন্ত মামলা দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট ওই হাই মাদ্রাসার হেড মাস্টারের বিরুদ্ধে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দপ্তরকে। সোমবার পাড়ায় শিক্ষালয়ের প্রথম দিনেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। হয়নি মিড ডে মিল রান্না। এই চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে এদিন স্কুল খুলতেই সোমবার ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং ছাত্র ছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্কুলের গেট আটকে চলে দীর্ঘক্ষঙ ধরে বিক্ষোভ। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম।
অন্যদিকে, শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে হাইকোর্ট হয়েছে। তবু আমরা সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছি।
যদিও এ ব্যাপারে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ এর বিডিও বিজয় গিরি জানান, গোটা বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

