আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২৭ এপ্রিল: গত কয়েকদিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। সংক্রমণ রুখতে মাস্কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। রাস্তায় বেরলেই মাস্ক পরতেই হবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে বার বার এলাকায় মাইকিং করে মানুষজনকে সচেতন করা হয়েছে। তবুও কিছু মানুষ কিছুতেই সচেতন হচ্ছেন না বলে অভিযোগ। আর সেই সমস্ত মানুষদের জন্য প্রতিদিন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে পুলিশের তরফ থেকে।
রবিবার, সোমবারের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে মাস্ক না পরে যারা বাইরে বেড়িয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালো ক্যানিং, বাসন্তী ও গোসাবা থানার পুলিশ। এদিন সকাল থেকে ক্যানিংয়ের সাতমুখী বাজার, হেড়োভাঙা বাজার, রায়বাঘিনী মোড় এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। মাস্কবিহীনদের লাঠিপেটা করা হয়। কাউকে কাউকে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় কান ধরে উঠবস ও করায় পুলিশ। এরপর পুলিশের তরফ থেকে তাঁদেরকে মাস্ক বিতরণের পর বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন ক্যানিং থানার পুলিশ মোট ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে বাসন্তী থানার পুলিশের তরফ থেকেও মাস্কবিহীনদের বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযান চলে। বাসন্তীর কালিডাঙ্গা ও নীলকণ্ঠ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে বাসন্তী থানার পুলিশ। গোসাবা থানার পুলিশের তরফ থেকে এদিন গোসাবার পাঠানখালি ও গোসাবা বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয় মাস্কের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়ার কারণে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায়ও এলাকায় একইভাবে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনে মামলা রজু করা হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে।
অন্যদিকে, করোনা সচেতনতায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জয়নগর মজিলপুর টাউন কোভিড সচেতনতা কমিটি। দ্বিতীয় পর্যায়ে করণা সংক্রমণকে রুখতে এলাকার মানুষকে সচেতন করতে জয়নগর-মজিলপুর এলাকার সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পৌর প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথে নামলেন মঙ্গলবার। গত রবিবার জয়নগর মজিলপুর পৌর ভবনে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভার সদস্যদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জয়নগর মজিলপুর টাউন কোভিড সচেতনতা কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি মঙ্গলবার সকাল থেকেই জয়নগর-মজিলপুর এর সমস্ত বাজার হাটে অভিযান চালিয়ে কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ সম্বন্ধ্যে মানুষকে সচেতন করতে থাকেন।

