বন্ধ হোক বর্ষবরণ উদযাপনের শব্দ তাণ্ডব! মুখ্যমন্ত্রীকে আগেভাগে চিঠি দিলেন শহরের বিশিষ্ট বয়স্করা

আমাদের ভারত, ২৮ ডিসেম্বর:
মাত্র তিনদিন পরে নতুন বছরের আগমনী উৎসবে মাতবে রাজ্য তথা দেশবাসী। ইংরেজি বছর শেষ ও বর্ষবরণের উদযাপনের অন্যতম অংশ বাজি পোড়ানো, গান বাজনা। তারস্বরে মাইক বাজিয়ে চলবে উৎসব পালন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়াজ সহ্য সীমার অতিক্রম করে যায়। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অসুস্থ মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। সেই শব্দ তাণ্ডব থেকে বাঁচতে আগে ভাগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি লিখলেন শহরের ৫০ জন বরিষ্ঠ নাগরিক।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পিটিশন জমা দিয়েছেন কলকাতার ৫০ জন বিশিষ্ট বয়স্ক নাগরিক। যাদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ তথা ইএনটি বিশেষজ্ঞ দুলাল বসু, বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি প্রাক্তন প্রধান সমর বাগচী, পরিবেশবিদ শুভেন্দু দাশগুপ্ত, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড হাইজিনের প্রাক্তন ডিরেক্টর অরুনাভ মজুমদার, সাংবাদিক বুড়োশিব দাশগুপ্ত, ডাবলু ডাবলু এফ ইন্ডিয়ান চ্যাপ্টারের শাশ্বতী মুখোপাধ্যায়।

চিঠিতে তারা লিখেছেন,”আমরা প্রবীণ নাগরিকরা খুব উদ্বিগ্ন, যারা সবুজ মঞ্চ নামক সংগঠনের মাধ্যমে একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা আপনার কাছে দরবার করছি। আমরা নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে আতশবাজি, শব্দবাজি মিউজিক সিস্টেম, অ্যামপ্লিফায়ার, লাউড স্পিকার ইত্যাদি যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে শহরের দূষণের মাত্রা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছি। তাই আমরা এই বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। হাজার আইনি নির্দেশিকা সত্ত্বেও উৎসবের সময় শব্দ দূষণ মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। বেশিরভাগ প্রবীন নাগরিকই নানা রকম শারীরিক অসুস্থতায় ভোগেন। লাউড স্পিকারের কারণে এসব সমস্যা আরো বেড়ে যায়।”

দুলাল বোস জানিয়েছেন, শব্দ দূষণের সমস্যা সারা বছরই থাকে কিন্তু উৎসবের সময় তা লাগাম ছাড়া হয়ে যায়। সবার উপরে তার প্রভাব পড়লেও বয়স্করাই বেশি কষ্ট পান।

সবুজ মঞ্চের সেক্রেটারি নব দত্ত জানিয়েছেন, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল নির্দেশ অনুযায়ী, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ দিনে পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহার এবং শব্দসীমার মধ্যে লাউড স্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব মানা হয় না। আমরা সবাই দেখেছি কিভাবে ক্রিকেট এবং ফুটবল বিশ্বকাপের সময় এবং অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠানে সেই নিয়ম ভাঙ্গা হয়। পুলিশ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ড সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয় না বলে অভিযোগ তাদের।

বয়স্কদের বিশেষত যারা ঘুমের ওষুধ খান তাদের উত্তেজনা সীমা অন্যান্যদের তুলনায় কম। তাই অসময়ে যেকোনো রকমের শব্দ বিশেষ করে শীতের রাতে যখন শব্দ বেশিদূর পৌঁছে যায় তাদের ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে। তা থেকে বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ অনুপ হালদার।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গ্রিন ট্রাইবুনালের কাছে একটি হলফনামা দাখিল করেছে। যা থেকে দেখা গেছে শুধুমাত্র গ্রামীণ হুগলি এবং পূর্ব মেদনীপুর ছাড়া রাজ্যের কোথাও পুলিশ দীপাবলীর সময় ডিজে বক্স ও লাউড স্পিকারের কারণে শব্দসীমায় লঙ্ঘনেরএকাধিক অভিযোগ আসা সত্ত্বেও একটি মামলাও দায়ের করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *