আমাদের ভারত, ৬ আগস্ট: এলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জ্ঞানব্যাপী মসজিদে ইতিমধ্যে সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। শনিবার ৪১ জন বিজ্ঞানীর একটি দল প্রায় সাড়ে সাত ঘন্টা ধরে মসজিদ চত্বরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং গম্বুজ তথা মসজিদের ভূ-গর্ভস্থ অংশগুলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন। জানাযাচ্ছে, তাতেই একটি চার ফুট উচ্চতার মূর্তি ও ২ ফুটের লম্বা একটা ত্রিশূল এবং পাঁচটি কলস পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ন’টা থেকে বিতর্কিত জ্ঞানব্যাপী মসজিদে শুরু হয় সমীক্ষার কাজ। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ছাড়াও আইআইটির বিশেষজ্ঞরাও এই সমীক্ষায় ছিলেন। সেই সমীক্ষায় মসজিদের দেয়ালে খোদাই করা ত্রিশূল, ঘন্টা, স্বস্তিক চিহ্ন এবং ফুলের প্রতীকের খোঁজ মিলেছে। এই সব কিছুর ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। নিদর্শনগুলির নকশা নির্মাণশৈলী খুঁটিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মসজিদের ভেতরের বিভিন্ন অংশের উচ্চতা এবং গভীরতাও পরিমাপ করা হয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ থাকা অংশগুলি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।সমস্ত কিছুর নোটও নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওই এলাকায় নিরাপত্তা যাতে কোনভাবেই বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে চার সপ্তাহের মধ্যে জরিপ ও সমীক্ষার কাজ শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর।
হিন্দু পক্ষ দাবি করেছে, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একাংশ ভেঙ্গে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব জ্ঞানব্যাপী মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদ চত্বরে তার প্রমাণ আজও রয়েছে। দেওয়ালেই খোদাই করা রয়েছে হিন্দু দেবদেবীর মুখ। আদালত নির্দেশ দেওয়ার আগে জরিপের সময় একটি পাথরখণ্ড উদ্ধার হয়। হিন্দুপক্ষ সেই পাথর খণ্ডকে একটি শিবলিঙ্গ বলেই দাবি করেছিল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ দাবি করেছিলেন, জ্ঞানব্যাপী আদৌ কোনো মসজিদ নয়। তিনি বলেছিলেন, মসজিদে কি ত্রিশূল থাকে? দেবতার মূর্তি থাকে? জ্ঞানব্যাপীতে কোথা থেকে সেগুলো এলো? এগুলো নিশ্চয়ই হিন্দুরা রাখেনি। তাঁর কথায় জ্ঞানব্যাপীকে মসজিদ বললে বিবাদ বাড়বে। একইসঙ্গে তিনি মুসলিম পক্ষের কাছে এই ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার করার কথা বলেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ভুলের কথা বিবেচনা করে মুসলিম পক্ষের উচিত ভুল শুধরে নেওয়া।

