‘ফারাক্কায় জমি লুঠের জন্য হাড় হিম করা সন্ত্রাস রাজ্য পুলিশের,” অভিযোগ এপিডিআর-এর

আমাদের ভারত, ২ জুলাই: “মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা ব্লকের দাদনটোলায় শিল্পপতি আদানির হয়ে জমি লুঠের জন্য রাজ্য পুলিশ আজ হাড় হিম করা সন্ত্রাস চালাল।“ শনিবার এই অভিযোগ করল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বেচবে আদানী পাওয়ার। সেজন্য হাই টেনশন লাইন যাবে ফারাক্কার দাদনটোলা গ্রামের আম বাগান, লিচু বাগানের উপর দিয়ে। এ কথা জানিয়ে এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর শনিবার এই প্রতিবেদককে জানান, “আজ সকালে জমি মালিকদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে আদানীর লোকেরা হাই-টেনশন তার টানাতে এলে গ্রামবাসীরা বাধা দেয়। রাজ্য পুলিশ, র‍্যাফ, তৃণমূল ও আদানীর গুন্ডারা গ্রামবাসীদের চারদিক ঘিরে নির্মমভাবে লাঠিপেটা করে। পাথর ছোড়ে। অবস্থানরত প্রতিবাদীদের অবস্থান স্থল ভেঙে সবাইকে বেধড়ক পেটায়। নারী-পুরুষ- শিশু নির্বিশেষে বহু গ্রামবাসী গ্রেপ্তার, রক্তাক্ত। বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাহারায় হাই-টেনশন তার টানানোর কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে আহতদের এবং আন্দোলনের নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে।“

রঞ্জিতবাবুর বক্তব্য, “এপিডিআর মমতা সরকারের পুলিশের এই অতি সক্রিয় সন্ত্রাসী ভূমিকার তীব্র নিন্দা করছে ও দোষী পুলিশদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। প্রসঙ্গতঃ জমি মালিকদের সঙ্গে কোনও রকম চুক্তি ছাড়া, তাঁদের সন্মতি ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া আমবাগান ও লিচু বাগানের উপর দিয়ে এভাবে হাইটেনশন তার নিয়ে যাওয়া বেআইনি। কৃষক ও গ্রামবাসীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বে পুলিশ দিয়ে মারধর করে এভাবে জমি দখল করার অপচেষ্টা খুবই আপত্তিজনক।”

“একদিন জমি আন্দোলোন করেই ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। ইতিহাসের পরিহাস আজ মমতা সরকারই চাষীদের অসম্মতি সত্বেও পুলিশ দিয়ে, গুন্ডা দিয়ে সন্ত্রাস সৃস্টি করে শিল্পপতিদের হয়ে জমি দখল করছেন। আমরা সরকারের আজকের ভূমিকার ফের নিন্দা জানাচ্ছি। সরকারকে বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি জানাচ্ছি। কোনও অনিচ্ছুক কৃষকের জমি নেওয়া যাবে না। কৃষকদের এই দাবি আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। এই আন্দোলনকে এপিডিআর পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে এবং আন্দোলনকে সর্বতোভাবে সহায়তা করার অঙ্গীকার করছে।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *