পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৪ মার্চ: ২০১৮-১৯ থেকে রাজ্য অডিট রিপোর্ট জমা করেনি।রাজ্যকে কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না, মমতার বারবার এমন অভিযোগের কড়া উত্তর দিলেন বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থী তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী। তিনি বলেন, কোম্পানির অ্যাকাউন্টের জন্যও প্রতিবছর অডিট হয়। আর এখানে রাজ্য সরকার তাদের অ্যাকাউন্টের কোনও অডিটই করেন না বছরের পর বছর। তবে কিভাবে টাকা দেবে কেন্দ্র? শুধু তাই নয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হওয়া রাজ্য সরকারকে একাধিক ইস্যুতে তুলোধনা করেন বিজেপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী। আলিপুরদুয়ার থেকে সরিয়ে মঙ্গলবার বালুরঘাট কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই বুধবার সকালেই শহরে হাজির হয়েছেন অশোকবাবু। বালুরঘাটের চকভবানী বারোয়ারী কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রথম দিনেই নিজের পরিচিতি ও দলের হয়ে প্রচার পর্ব সারেন তিনি। এরপর দুপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে হাজির হয়ে দলীয় নেতৃত্বদের সাথে নিজের পরিচিতির পাশাপাশি একটি স্বল্প সময়ের বৈঠকও করেন বিজেপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী। যেখানে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি বিনয় বর্মন, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার অন্যান্য নেতৃত্বরা। এদিন এলাকায় নিজের নামে একটি দেওয়াল লিখতেও দেখা গিয়েছে অশোক লাহিড়ীকে। যারপরে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কলকাতা তার জন্মস্থান হলেও অবিভক্ত দিনাজপুরের রায়গঞ্জেই তার মামা বাড়ি রয়েছে। রাজনীতির সাথে সেভাবে যুক্ত না থাকলেও বালুরঘাট কেন্দ্র থেকেই বিজেপি তাকে প্রার্থী করেছে।
তার পরিচয় হিসাবে জানা গেছে, দেশের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা হিসাবে অশোক লাহিড়ী ততকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি ও মনমোহন সিংয়ের অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন। পি চিদম্বরমের সময়েও তিন বছর ওই একই পদে বহাল ছিলেন তিনি। বন্ধন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান, বিশ্ব ব্যাঙ্ক, আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। আর যাকেই বালুরঘাট কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে তুলে নিয়ে এসেছে বিজেপি।
এদিন সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে বিজেপি প্রার্থী অশোক লাহিড়ী বলেন, যে কোনও কোম্পানীর অ্যাকাউন্টের জন্যও অডিট করতে হয়। সেখানে এরাজ্য গত কয়েকবছর ধরে কোনও অডিটই জমা করেনি। অথচ রাজ্য সরকারকে বারবার বলতে শোনা গেছে কেন্দ্র টাকা দেয় না, বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। কিন্তু এর বাস্তব চিত্রটা আলাদা। তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ সালের অডিট রিপোর্টই এখনো জমা করেনি এরাজ্য। আমফানের অডিটও জমা করেনি তারা। তাহলে কিভাবে তাদের টাকা দেবে সরকার। তিনি আরও বলেন, সরকার বা বিধায়করা মানুষের জন্য কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এরাজ্যে যাত্রী প্রতিক্ষালয়েও মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়কদের ছবি থাকে। যা তাকে যথেষ্টই অবাক করে। তাদের কাজ বোঝানোর জন্য ছবি লাগাতে হয়।

