রাজেন রায়, কলকাতা, ২৪ জানুয়ারি: প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। কিছু সময়ের জন্য আংশিকভাবে স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই তা ফের বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। অনলাইন পঠনপাঠন প্রক্রিয়া চালু থাকলেও, পড়াশোনার স্বাভাবিক ছন্দটার যেন তাল কোথাও একটা কেটে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবক অভিভাবিকাদের একটি বড় অংশ।
সোমবার দুপুরে স্কুল খোলার দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভও দেখান এসএফআই কর্মীরা। এই সবের মধ্যেই স্কুল খোলার বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বললেন, “রাজ্য সরকার স্কুল খোলার পক্ষে। তবে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় রাজ্য সরকার। যাতে স্কুল খোলার কয়েকদিন পরেই আবার বন্ধ করে দিতে হল, এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্য সরকার পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচি শুরু করছে। এই পাড়ায় শিক্ষালয় কথাটির নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, পড়া ও লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন নাচ, গান, আবৃত্তির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আপাতত রাজ্যের ৫০ হাজার ১৫৯ টি প্রাথমিক স্কুলে এবং ১৫ হাজারের বেশি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে। মোট ২ লাখেরও বেশি শিক্ষক থাকছেন এই ব্যবস্থায়। এর মাধ্যমে ৬০ লাখেরও বেশি পড়ুয়া উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
করোনা পরিস্থিতি দেখে স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছেন। কবে স্কুল খোলা হবে, সেই কথা মুখ্যমন্ত্রী জানাবেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “সব স্কুলই ধাপে ধাপে খুলতে চাই।” তবে ঠিক কবে থেকে স্কুল খোলার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি শিক্ষামন্ত্রী।

